14 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 250TK. 215 You Save TK. 35 (14%)
“সত্যডানা সন্দেহপালক" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ
সত্য আর সন্দেহের ঘূর্ণাবর্তে পাক খেতে খেতে এগিয়ে গেছে এ উপন্যাস। এর প্রেক্ষাপট বিস্তৃত ঢাকা থেকে সুদূর সেন্ট্রাল লন্ডনের ই
বই : সত্যডানা সন্দেহপালক।
লেখক : মোহিত কামাল।
প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ।
মূল্য : ২৫০ টাকা।
পৃষ্ঠা : ১৪৪।
প্রকাশনী : অনিন্দ্য প্রকাশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরুনোর পর কেটেছে বহু সময়। এক সময় ক্যাম্পাস তথা নিজ গ্রুপের কেন্দ্রবিন্দুই ছিলো কেয়া। একে তো ভালো ছাত্রী তার উপর ভয়ংকর সুন্দরী! তাকে ঘিরেই সকল কর্মযজ্ঞ চলত বন্ধুমহলে। কিন্তু একটা সময় কেয়া বুঝতে পারলো, সময়ের স্রোতে ভেসে সেইসব দিন। বন্ধুবান্ধবদের সবারই বিয়ে-টিয়ে হয়ে গেছে, যার যার সংসার নিয়ে তারা ব্যস্ত। দিন দিন সে হয়ে পড়েছে নিঃসঙ্গ। সুন্দরীদের অহংকার যে বেশি থাকে তা তো আর নতুন কিছু না। কেয়া বুঝতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে সেও যে কম অহংকারী নয়! তা টের পেলো অনেক পরে।
বিয়ে-শাদিতে অমত নেই তার। তাই ছেলে দেখার ব্যাপারটা সে সহজভাবেই মেনে নেয়। রাফির সাথে কথা বলার সময়, কথায় কথায় জানতে পারে কেয়াকে দেখার আগেও আরও একজন মেয়ে দেখেছিল, যাকে রাফির ভালোও লেগেছিলো। কিন্তু মেয়ের অন্যত্র পছন্দ থাকায় ওকে সরাসরি না করে দেয়। আর এ কথাতেই কেয়ার আঁতে ঘা লাগে। এরপর শুভর সাথের সাক্ষাৎটাও হয় ভারী বিদঘুটেভাবে। মনোক্ষুণ্ণ হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয় কেয়া। শুরু করে নতুন প্রস্তুতি।
ইউকেতে উচ্চতর ডিগ্রী লাভের জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রস্তুতি হিসেবে আইইএলটিএস-এ ভর্তি হয়, সাফল্যের সাথে ৭ স্কোর করে। নিজের প্রস্তুত করে সাফল্যের আরও একধাপ সামনে এগিয়ে যায়। বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ যোগানো! অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আর দৌড়ঝাঁপ করে টাকাটাও ম্যানেজ করে। অবশেষে স্বপ্ন পুরণে উড়াল দেয় কেয়া।
আচ্ছা অজানা অচেনা শহর লন্ডনে কেয়া কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নেবে? কেয়া কি পারবে তার স্বপ্ন পূরণ করতে? বাবা মার একমাত্র মেয়ে হবার ফলে তাদের কাছে থেকে সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি বেশিই পেয়েছে সে। সে কী তার বাবা-মার মুখ রক্ষা করতে পারবে? নাকি সময়ের স্রোতে ভেসে যাবে অজানায়?
আত্মবিশ্বাসী আর প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এক দুর্বার ও অপ্রতিরোধ্য নারী কেয়া! সে কী সাফল্য অর্জন করতে পারবে? সত্য-মিথ্যা, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচালে দোদুল্যমান কেয়ার জীবনের উত্থান-পত্তনের সফর বৃত্তান্ত জানতে, পাঠককে সত্যডানা থেকে সন্দেহপালক ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। তবেই নিরপেক্ষভাবে কেয়াকে বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারবে।
বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হবার সুবাদে কেয়া হয়ত অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে। আর তাই হয়ত ধীরে ধীরে সে অনেকটা স্বেচ্ছাচারী হয়ে পড়ে।
যদিও কেয়া পরিবারের মতেই ছেলে দেখতে যেতো। বা ছেলের সাথে দেখা করতে আপত্তি করত না। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, নিজেকে নিয়ে প্রচন্ড অহংকার ছিলো তার মধ্যে। রুপ গুণ দুটোই যথেষ্ট থাকায় তার আত্মবিশ্বাসটা অহংকারে রুপ নেয়। নইলে দেখতে আসা পাত্রের সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে "মেয়েটাকে ভালোই লেগেছিলো" পাত্রের এমন সহজ স্বীকারোক্তি নিয়ে মনের ভেতর সন্দেহের সৃষ্টি হতো না।
যার জন্য বিয়ের কথাই আর আগায়নি। কিন্তু বিদেশে যাবার সময় টাকার প্রয়োজন হলে রাফি যখন টাকা দিতে চাইলে, বেশ সাবলীলভাবেই কেয়া সে টাকা গ্রহণ করে। ঋণ হিসেবেই হোক না কেন, তখন তার আত্মসম্মানবোধে লাগলো না?
যাই হোক কেয়ার চরিত্রের এই দিকটা আমার মোটেই ভালো লাগেনি। কিন্তু তার চরিত্রের দৃঢ়তা, অকুতোভয় ও দুঃসাহসী মনোভাব, আর স্বপ্ন পূরণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য তার অধ্যবসায় তা সত্যিই প্রশংসনীয়।