হঠাৎ আকাশটা মেঘে ঢেকে গেল। একান্তে ঝিরঝিরে বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়ে
গেল চোখের পাতা, অকস্মাৎ পাতার ফাঁক থেকে গড়িয়ে পড়লো কয়েক ফোঁটা
জল। পাখিরা ভেজা ডানায় রাখলো মুখ। এতদিনের শব্দহীন পৃথিবীর বুকে আজ
আবার হাতুরি পেটার শব্দ হলো।
বুকের মাঝে অসহ্য যন্ত্রণা! শামিম আরা সাম্মী
যন্ত্রণা হতে মুক্তি পেতে চায়, কিন্তু জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ালেও নারী জন্মে মুক্তি
মেলে না। অগত্যা শব্দহীন যন্ত্রণাকে একাকী বয়ে বেড়ায় নিশিদিন! এ কষ্টের পথ
ক্রমশ বড় হয়, সবুজতা হারিয়ে ফ্যাকাসে ধূসর পাটে চলে যায় তবুও তাকে আরও
শক্ত করে ধরে রাখে সে, বন্ধনহীন ঝড়ের কবলে পড়ে নিত্য দিশাহীন সাম্মী এগিয়ে
যায় সামনের দিকে, কখনও কষ্টের দিকে এক ধাপ এগিয়ে, কখনও মধ্যবর্তী
অবস্থানে দাঁড়িয়ে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।
আশা প্রত্যাশা একটাই,
অন্ধকার থেকেই আলোর জন্ম, কষ্ট থেকে সুখের সৃষ্টি, সুন্দর এক সকাল
আসবেই। কতদিন অন্তরাত্মা ছটফট করছে। কেন আলোর পৃথিবীটা শক্ত বাধনে
বাধার নয়? হাসি-আনন্দ, চাওয়া-পাওয়ার নাটাইটা ঠিক কার হাতে? চাইলেই কেন
মনটাকে এক আকাশ আনন্দের বাটি তুলে দিতে পারে না? চারপাশে কত ফুল-
লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, সাদা আজ আর ফুলের ঘ্রাণ নেয়া হয়ে ওঠে না!