21 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 490TK. 429 You Save TK. 61 (12%)
ফিকে হয়ে যাওয়া নীল রঙের শাড়ির আঁচলের মত দেখাচ্ছে যমুনা নদীকে। ওপরে ঢিমেতালে ছুটে বেড়ানাে মেঘের ছায়া। তার তলে এই যমুনার জলে ঝিরিঝিরি বাতাস। বাতাসের স্পর্শে নদীর পিঠ দেখে মনে হচ
যমুনা নদীর উপর দিয়ে সিল্কসিটি ট্রেন এগিয়ে যাচ্ছে। থামছে নানান ষ্টেশনে। ট্রেনে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা ভর্তি হয়েছে। তাদের চোখ ভর্তি স্বপ্ন। কি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য, তারা জানে না। তারা শুধু জানে, সবকিছু পেছনে ফেলে তাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। স্বপ্নে বিভোর একদল শিক্ষার্থী 'বগি নাম্বার - জ' তে করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যাচ্ছে। সেই দলে রয়েছে পরিতোষ, নাহিদ, নীলিম, পাপিয়া, মিরান, ফারহানা, সঞ্জু, নোমান, আসলাম সহ আরও অনেকেই।
নব্বইয়ের শেষদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নীলিম বাম সংগঠনের কর্মী। তার সাহসিকতা ভাবিয়ে তোলে যে কাউকে। সে নিজেই যেন একটা মিছিল। কাউকে পাত্তা দেয় না বললেই চলে। ধীরে ধীরে সে দুর্বল হতে থাকে নেশায় আসক্ত নোমানের প্রতি। নোমান ভীষণ মেধাবী। ক্যাম্পাসে তার দারুণ প্রভাব। কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থেকেও কিভাবে সে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়! শুরুতে সে নীলিমকে পাত্তা না দিলেও একসময় সে বুঝতে পারে তার জীবন জড়িয়ে গেছে নীলিমের সাথে। নেশার ভয়াবহ জগত থেকে বের হয়ে যায় সে। নীলিম এবং নোমান কেউ কাউকে মুখ ফুটে ভালোবাসার কথা বলে না। অথচ কী গভীর করে তারা একে অপরকে ভালোবেসে যায়।
তথাকথিত 'সংগঠন' থেকে বের হয়ে যায় নাহিদ। তার আর রাজনীতি ভালো লাগে না। তার কৃষক বাবার অনেক স্বপ্ন তাকে নিয়ে। সে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে চায়। কিন্তু পারে না। পুরনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাকে মুক্তি দেয় না। আসলাম নানান কায়দায় লুটতরাজ চালাতে থাকে। ক্ষমতার কারণে সাধারণ ছাত্ররা তাদের কিছু বলতে পারে না। অন্যদিকে পরীতোষ, মেহেদি পার করে তাদের ক্যাম্পাস জীবন। মিরান এবং ফারহানা পার করতে থাকে তাদের সেরা সময়গুলো।
আর সঞ্জু? গানপাগল সঞ্জুর মাঝে আমি লেখক লুৎফর হাসান ভাইয়ের ছায় দেখেছি। কী অদ্ভুত সুন্দর কথা সেসব গানের। বড় শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন তার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি মেয়ে সঞ্জুর জন্য পাগল। কিন্তু সঞ্জু পাগল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কান্তার জন্য। সঞ্জুর অবর্তমানে কান্তা নতুন হাত বেছে নেয়। ভেঙ্গে পড়ে সঞ্জু। তারপর?
দেখতে দেখতে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়ে যায়। সময় আসে বিদায়ের। রাজনীতি না করেও সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সকলের পাশে থাকা নোমান ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবে পরের দিন সকালে। সকলের চোখ ছলছল। নীলিম এগিয়ে আসে। আলতো করে ছুঁতে চায় নোমানকে। কিন্তু নোমান তাকে ছুঁতে দেয় না। সেখানে থেকে যায় হাহাকার। তারপর? তারপর ১৬ বছর পরে সকলে একদিন দেখা করে। সেখানে দেখা যায় জীবনের অদ্ভুত আরেক সমীকরণ।