১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
আরো দেখুন
১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
"সীরাতুন নবি (সা:) বিশুদ্ধ হাদীসের ভিত্তিতে নবি-জীবনের গ্রন্থনা-৩ (খন্দক থেকে মূতা)" বইটিতে লেখা অনুবাদকের কথা: সকল প্রশংসা আল্লাহর শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ -এর উপর।
দেড় সহস্রাব্দি জুড়ে রচিত অসংখ্য সীরাত গ্রন্থের মধ্যে মুহাদ্দিস ইবরাহীম আলি কর্তৃক সংকলিত 'সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ্' গ্রন্থটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে লেখকের নিজের বিবরণীতে সীরাত পেশ করা হয়নি; বরং সীরাতের বিবরণী সম্বলিত বিশুদ্ধ হাদীসসমূহকে একের। পর এক উল্লেখ করা হয়েছে। এদিক থেকে এটি মূলত একটি বিশুদ্ধ হাদীস-সংকলন মাত্রা।
লেখকের নিজস্ব বিবরণীতে সীরাত পেশ না করে, প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবিদের ভাষ্য হুবহু তুলে ধরায়, একদিকে ঘটনাবলি হয়ে উঠেছে আশ্চর্য রকমের জীবন্ত, অপরদিকে পাঠকবর্গও হতে পারছেন নিঃসংশয়; কারণ, লেখক নিজে থেকে ধারাভাষ্য দিলে, নবি ও সাহাবিদের বক্তব্য হুবহু এমন ছিল কি না—এ নিয়ে পাঠকের মনে একটি সংশয় থেকেই যায়। পেছনে ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্ষেত্রে প্রামাণিকতা জরুরি। ঐতিহাসিক সকল ঘটনার ক্ষেত্রে এ নীতিটি সমানভাবে কার্যকর হলেও, মুহাম্মাদ -এর জীবনেতিহাসের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য; কারণ, আল্লাহ ও পরকাল-প্রত্যাশী লোকদের জন্য আল্লাহর রাসূল -এর জীবনই হলো সর্বোত্তম আদর্শ; আর অনুকরণীয় আদর্শের উৎস হওয়া চাই শক্তিশালী, প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য। মুহাদ্দিস ইবরাহীম আলি কর্তৃক সংকলিত 'সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ্' নামক গ্রন্থটিকে আমরা বাংলা অনুবাদে চার খণ্ডে প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছি। গত বছর রবিউল আউয়াল মাসে এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়, যেখানে স্থান পেয়েছে নবি ৯-এর জন্মের আগ থেকে শুরু করে মদীনায় হিজরত পর্যন্ত সময়কার ঘটনাপ্রবাহ৷ গত রমাদান মাসে প্রকাশিত হয় এর দ্বিতীয় খণ্ড, যেখানে হিজরতের পর থেকে খন্দক যুদ্ধ পর্যন্ত সময়কার ঘটনাবলি স্থান পেয়েছে।
আলহামদু লিল্লাহ, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হলো গ্রন্থটির তৃতীয় খণ্ড। এ খণ্ডের পরিধি খন্দক বা আহাব যুদ্ধ থেকে নিয়ে মূহা যুদ্ধ পর্যন্ত সময়কাল। এতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি যেসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে, তা হলো: আহ্যাব যুদ্ধের নেপথ্য কারণ, এ যুদ্ধে নবি -এর অলৌকিক ঘটনাবলি, বান্ কুরাইযাকে কঠিন শাস্তি দেওয়ার কারণ, হুদাইবিয়ার অভিযান, সন্ধির শর্তাবলি ও দফাসমূহ, চুক্তি পালনে নবি -এর আন্তরিকতা, খাইবার যুদ্ধ, আত্মসাতের বিভীষিকা এবং বিভিন্ন সম্রাট ও শাসকের উদ্দেশে নবি -এর চিঠিপত্র।
এসব বিবরণ থেকে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—নবি-জীবন কোনও কল্পলোকের প্রশান্ত ঘটনাপ্রবাহের নাম নয়, এ হলো মানুষের বাস্তব জীবনে প্রতিদিন ঘটে-চলা ও ঘটিতব্য বিভিন্ন ঘটনার একটি আদর্শ রূপ মাত্র। ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে সীরাত হয়ে উঠুক আমাদের প্রতিদিনের পথচলার আলোকবর্তিকা! আমীন!
শাইখ জিয়াউর রহমান মুন্সী (হাফিজাহুল্লাহ)। জন্ম ১৯৮৪ সালে, কুমিল্লায়। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেন। তারপর হিফজুল কুরআন সম্পন্ন করে নানুপুর মাদরাসা থেকে কওমি নেসাবের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পড়াশোনা করেন তামিরুল মিল্লাত মাদরাসায়। আলিম পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা-তালিকায় ২য় স্থান, ফাজিল পরীক্ষায় ১৪তম স্থান অর্জন-সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পেশাগত জীবনে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অধ্যাপনা করেছেন এক যুগেরও বেশি সময়। মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি আরবি, ইংরেজি, উর্দু ও ফার্সি ভাষাতেও তিনি পারদর্শী। এ ছাড়া ফ্রেঞ্চ, জার্মান, ল্যাটিন প্রভৃতি ভাষার চর্চাও অব্যাহত রেখেছেন। ইসলামের কালজয়ী গ্রন্থগুলো বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যথার্থতা ও সাবলীলতা বজায় রেখে অনুবাদ-কর্ম সম্পাদনে তার মুনশিয়ানা চোখে পড়ার মতো। নির্দ্বিধায় বলা যায়, যথার্থ-অনুবাদ ও নতুন আঙ্গিকে ইলমি-গ্রন্থ নির্মাণে সময়ের অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তিত্ব শাইখ জিয়াউর রহমান মুন্সী। তার অনূদিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাসূলের চোখে দুনিয়া, সীরাতুন নবি সা., শামাইলুন নবি সা., জীবিকার খোঁজে, মৃত্যু থেকে কিয়ামাত, আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল, বান্দার ডাকে আল্লাহর সাড়া, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর মর্মকথা, চল্লিশ হাদীস ও সুন্দর আখলাক। আরও রয়েছে কুরআন মাজীদ-এর একটি স্ট্যান্ডার্ড অনুবাদ—যা প্রাচীন তাফসীর, অভিধান ও হাদীস-গ্রন্থ অধ্যয়নের অভিজ্ঞতার আলোকে ইউনিক স্টাইলে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ল্যাসিকাল ইমামদের ব্যাখ্যা সংযুক্ত করে একখণ্ডে প্রণয়ন করেছেন তাফসীরুল আইম্মাহ। প্রামাণ্য সব অভিধান এবং আয়াত-হাদীসকে সামনে রেখে রচনা করা হচ্ছে আরবি-বাংলা অভিধান। আর রাসূল সা. থেকে বর্ণিত লক্ষ লক্ষ হাদীসের বিশাল ভান্ডার সুনিপুণভাবে সংকলন করা হচ্ছে ‘জামিউস সুন্নাহ’ শিরোনামে। বাংলায় এ প্রকল্পটি প্রকাশিত হচ্ছে ‘সুন্নাহ সমগ্র’ হিসেবে; যার প্রথম খণ্ড—সবার ওপরে ঈমান।