শওকত সাহেবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চারদিন গত হয়ে গেল। থানা- পুলিশ, হাসপাতাল- সবখানেই খোঁজ করা হয়েছে। নিকট দূর সকল আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে ফোনে। মানুষটার পাত্তা নেই। তাকে কেউ খুন করবে তেমনটিও হতে পারে না। কারও আগে পিছে লাগে না। আর খুন হলেও এই কদিনে লাশ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ পেত। স্বভাবে একেবারেই ভিন্ন এক মানুষ তিনি। কারও আদেশ-উপদেশই আমলে নেন না। উদ্ভট ধরনের কিছু কাণ্ড প্রায়ই ঘটিয়ে থাকেন। সে-সব করে আবার মজাও পান। একবার দিনাজপুর কান্তজীর মন্দির দেখতে গিয়ে ভিক্ষা করেছিলেন। প্রথম দর্শনেই মন্দিরটি পছন্দ হয়ে যায়। চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না। পকেটে তখনও আটশো পঁয়ত্রিশ টাকা ছিল। হঠাৎ করেই কিছুদিন থেকে যাবার সিদ্ধান্ত ঠিক করে ফেলেন। আর সঙ্গে সঙ্গেই মন্দিরের অদূরে গিয়ে গায়ের নীল রঙের পাঞ্জাবিটার কয়েক জায়গায় টেনে টেনে ছেঁড়েন। সেটি ময়লা করে গায়ে পরেন। সেলুনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যুতসই মনে করে হাসতে হাসতে মনে মনে বলেন, জিনিস একখান, মানাইছে ভালো, এক্কেবারেই পেশাদার ভিক্ষুক।