বিশখালী নদীর কোল ঘেষে সবুজে ঘেরা সুকন্যাদের গ্রাম। চারদিকে ধানক্ষেত। পাখির কুজন। সকাল বেলায় মেঠো পথ ধরে বালক বালিকারা গ্রামের পাঠশালা ও স্কুলে যায়। পথের পাশে গুল্মলতা হারগুজির বন, বনের মধ্যে সন্ধ্যে বেলায় শেয়ালের ডাক। আবার নির্জনতা ভেঙ্গে ঘুঘুপাখি আর ডাহুকের ডাক ভেসে আসে। কৃষকেরা সারাদিন মাঠে কাজ করে লাউয়ের তাজা ডগা কেটে হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি ফেরে। কৃষাণী মাটির চুলায় রান্না করে। এই মাটির দেশে তাদের নেই কোন অসুখ-নেই কোন বিলাসিতার বালাই।
গোধূলী শেষ। সুকন্যার মা ঘরেরে ভেতরে নকশী কাঁথা সেলাই করছিলেন। হাতের কাজ রেখে সুকন্যাকে ডেকে বললেন, কোথায়রে মা সুকন্যা, সন্ধাবাতী দে তুলশী তলায়। প্রদীপ দে পড়তে বস ভাইকে নিয়ে। ঠাকুর যে পাটে বসলো। পিছনের বারান্দা থেকে সুকন্যা-বললো। হ্যাঁ, মা আসছি।