দেশ-পাত্র ভেদ না করে সমগ্র জাহানের মুসলিম তথা নিপীড়িতের পক্ষে কথা বলছেন। তার এই ভুমিকা গুটিকতক স্বার্থবাদীর মাথা ব্যাথার কারণ হলেও নির্যাতিত মানুষের কাছে তিনি এক নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইনি তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ‘রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।’
এমন একজন ব্যাক্তি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাংলা ভাষাভাষীদের কাছেও ‘এরদোগান’ প্রিয় এক নাম। তাকে নিয়ে আগ্রহেরও কমতি নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় এমন ব্যাক্তিত্ব নিয়ে আশানুরূপ সংখ্যক বই বাংলা ভাষায় রচিত হয়নি। অথচ তার এরদোগান হয়ে ওঠার গল্প এবং রাষ্ট্রনীতি আমাদের জন্য শিক্ষনীয়। এদিক বিবেচনা করে তরুণ লেখক ও সাংবাদিক ‘আমিন মোহাম্মদ’ তার ‘প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও আধুনিক তুরস্ক’ বইটিতে এরদোগানের জীবনী সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্যবহুলভাবে এনেছেন। ২০১৮ বইমেলায় প্রকাশিত হবার পরপরই পাঠকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। প্রকাশিত হয়েছে ‘ইনভেলাপ পাবলিকেশন্স’ থেকে।
৬২ পৃষ্ঠার বইটিতে এরদোগান সমম্পর্কে আলোচনা রয়েছে দুইটি অধ্যায়।
১. তুরস্ক : অবস্থান, ধর্ম ও সংস্কৃতি
২. তাইয়্যিব এরদোগান।
তুরস্ক: অবস্থান, ধর্ম ও সংস্কৃতি
এ অধ্যায়ে লেখক তুরস্কের ভৌগলিক, রাজনৈতিক, সামাজিন ও ধর্মীয় বিষয়গুলো প্রামানিকভাবে এনেছেন। পুর্বেই বলেছি যে বইটি সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্যের এক সমাহার। মুসলিম ইতিহাসের গৌরব উসমানী খিলাফতের পতনের পর তুরস্কের রাজনৈতিক সংকট, সাইদ নুরসীর ও অন্যন্য ইসলামী মনীষিদের উদ্যোগ, বিভিন্ন আন্দোলনের সাফল্য-ব্যার্থতার কথা এসেছে।
তাইয়্যিব এরদোগান।
এ অধ্যায়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জন্ম, বংশপরিচয়, ছাত্রজীবনে বিভিন্ন কর্মকা- এবং অবশেষে তার এরদোগান হয়ে ওঠার পরিক্রমা উঠে এসেছে। বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে তুরস্ককে নিয়ে এরদোগানের ক্রমান্বয়ে এগিয়ে চলা, তুরস্কের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতি সাফল্য, সর্বশেষ ব্যার্থ সেনা অভ্যূত্থানের নেপথ্যের বিষয়গুলোও আলোচনা করা হয়েছে সুন্দরভাবে।
তাই ছোট পরিসরে এতো তথ্যবহুল একটি বই আমাদের সংগ্রহে থাকা উচিত।