১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয় সতীনাথ ভাদুড়ীর “জাগরী” উপন্যাসটি ১৯৪৫ সালে রচিত হলেও ১৯৪২ সালের আগস্ট আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত হয়েছে “জাগরী” উপন্যাসটি। জাগরী শব্দের অর্থ জাগরিত বা নিদ্রাহীন। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত আসামী বিলু। জেলের সেলের ভেতর নিদ্রাহীন হয়ে একঝাঁক পুরোনো স্মৃতি ফুটে ওঠেছে। কখনো মায়ের স্মৃতি, কখনোবা হেডমাস্টারি ছেড়ে গান্ধীজীর দলে যোগ দেয়া বাবার স্মৃতি আবার কখনো তার ছোট ভাই নিলু। বিলুকে অনেক বেশি ভালোবাসে তার ছোট ভাই নিলু। ছোটবেলা থেকেই সে তার দাদাকে অনেক শ্রদ্ধা করত। কিন্তু রাজনীতির মাঠ যেন তাদেরকে নিয়ে যায় অনেকদূর। দু’জন দুই দলের রাজনীতি করায় তাদের মধ্যে হতে থাকে মনোমালিন্য। এমনকি বিলুর ফাঁসির রায়ের সাক্ষী দিয়েছিল নিলু নিজেই। কিন্তু নিলুও একসময় ভাবে তার ভাইয়ের জন্য। সে কেন সাক্ষী দিয়েছিল। ছোট থেকেই সে দাদার আদর পেয়ে বড় হয়েছিল। কাল যদি সত্যিই ফাঁসি হয়ে যায়! নিজেকে কি পারবে ক্ষমা করতে! সে সিদ্ধান্ত নেয় সে চলে যাবে পূর্ণিয়া ছেড়ে, দূরে,বহুদূরে।
এছাড়া জেলে বন্দীদের জীবণও ফুটে ওঠেছে সুন্দরভাবে। বন্দীদের কষ্ট, বন্দীদের জন্য সরকারী তহবিল জেলার ,ওয়ার্ডারদের দ্বারা অকপটে মেরে দেয়ার গল্প ফুটে ওঠেছে এখানে। মাঝে মধ্যে ফুটে ওঠেছে জেলের আসামীর ফাঁসি কেন দেয়া হয়। মৃত্যদণ্ড চাইলে তো সায়ানাইড বা ক্লোরোফরম দেয়ার পরে কার্যকর করা যেত। কেন দরকার ছিল এত কষ্ট করে মারার। উত্তর হয়তো পাননি তিনি। তবে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। এই গল্প শুধু বিলুর নয়। বিলুর মতো হাজারো রাজনৈতিক আসামীর গল্প এটি।