হাঙকি আর পাঙকি, দুই ভাই। হাঙকি বড় হয়ে বানরের মতো বানর হতে চায়। পাঙকি হতে চায় মানুষ।
হাঙকি পড়াশুনায় মেধাবী। পাঙকির পড়াশুনায় মন নেই। ওকে নিয়ে সবাই আড়ালে মন্তব্য করে- হতচ্ছাড়া মানুষ
হাঙকি আর পাকি, দুই ভাই। হাঙকি বড়। পাঙকি ছােট। ওরা দুই ভাই হলেও পাঙকি কিন্তু হাঙকির মতাে মেধাবী নয়। পড়ালেখায় একেবারেই মন নেই। সারাদিন মানুষ হওয়ার সাধনায় থাকে। মানুষের মতাে বই পড়ে। লেজ গুটিয়ে রাখে। অন্যদিকে হাঙকির সুনামের শেষ নেই। মুখে মুখে রটে গেছে- বড় হয়ে হাঙকি বানরের মতাে বানর হবে। হাঙকিকে দিয়ে লাউয়াছড়া বনের নাম ছড়াবে। ও একদিন বানর সমাজের মুখ উজ্বল করবে। ইশকুলের বড় স্যারের দৃষ্টি আঙকির দিকে। তিনি বিশ্বাস করেন, হাঙকি স্কলারশিপ নিয়ে বাইরের বনে যাবে। বিশাল বিশাল বনের। ডাকসাইটে বানরদের সঙ্গে পাল্লা দেবে। বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নেবে।
পাঙকিকে নিয়ে সবাই হতাশ। ইশকুলের পড়ালেখায় ওর পারফরমেন্স বাজে। অ্যাসেম্বলিতে রােজ কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। সবাই পিটি স্যারের বাঁশি শুনে লে-রাইট করে। আর পাঙকি তখন ঝিমায়। স্যার বাঁশি ফুঁকে বলেন- সাে....জা.... হও। বাধ্য শিক্ষার্থীরা গাছের ডালে লেজ পেঁচিয়ে সােজা ঝুলে যায়। স্যার বলেনআ......মে... দাড়াও। শিক্ষার্থীরা লেজের গিঁটু খুলে আরাম করে। যার যার মতাে কিচির-মিচির শব্দ তােলে। পিটি স্যারের লে-রাইট মানে, বানরহানাদের লাফ-ঝাঁপ। এক ডাল থেকে আরেক ডালে লাফায় ওরা। স্যার যখন বলেন ল্যাক্টবানরছানারা বাঈয়ের গাছের দিকে লাফ দেয়। যখন বলেন রাইট- বানরছানারা ডানে লাফায়।