প্রথমেই এ বইয়ের নামটি যে কাউকে আকর্ষণ করবে। ‘শ্যামল মাটির দেশ’ খুবই কাব্যিক একটি নাম। বইটিকে মূলত তিনটি কিশোর উপন্যাসের একটি সংকলন বলা যায়। এক মলাটে তিনটি উপন্যাস পড়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছেন বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক মাহমুদউল্লাহ। কিশোর-কিশোরীরা যখন স্কুলের লম্বা ছুটিগুলো পার করে তখন তাদের ছোট ছোট বই পড়ে আর সময় কাটে না। কারণ ছোট বইয়ের ছোট ছোট গল্প অল্প সময়েই শেষ হয়ে যায়।
তাই তাদের জন্য এ বইটি একটি ভালো লাগার বই হয়ে উঠবে। বইটিতে সূচিবদ্ধ উপন্যাস তিনটি হলোÑবেনু থাকে শহরে, মুখোশের আড়ালে এবং মায়াবী হাতছানি।
প্রথম উপন্যাস ‘বেনু থাকে শহরে’র মূল কাহিনি হলো বাবা-মায়ের সঙ্গে বেনু থাকে ঢাকা শহরের পূর্বাচলে জলাভূমিতে নিজেদের বাসঘরে। পাটাতনের ওপর গড়ে তোলা এই বাসঘর ভেসে যায় এক ভয়াবহ বন্যায়। বেনুও ভেসে যায় বন্যার তোড়ে। কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েও বাঁধ নির্মাণ করেনি। নিজেদের স্বার্থটাই তাদের মুখ্য।
দ্বিতীয় উপন্যাস ‘মুখোশের আড়ালে’র মূল কাহিনি হলো, ধনসম্পদ বাড়ানোর যত উপায় আছে সবই প্রয়োগ করছে রাজশক্তি। মুশোখের আড়ালে অবলীলায় মানুষের ক্ষতি করে যাচ্ছে। এর আগে অবশ্য এই উপন্যাসটি ‘ডাইনি’ নামে প্রকাশিত হয়েছিল।
তৃতীয় উপন্যাস ‘মায়াবী হাতছানি’। এতে প্রতিটি ঋতুকে একেকটি দেশ কল্পনা করা হয়েছে। সেখানে দুই পরাশক্তি বর্ষা ও শীত। অপরিণামদর্শী গ্রীষ্মরাজ পরাশক্তির খপ্পরে পড়ে সব কিছু হারায়। হারিয়ে যায় নিজেও।
১৬০ পৃষ্ঠার এ বইটির কাগজ ও বাঁধাই চমৎকার। মাহমুদউল্লাহর বাক্য গঠন, সংলাপ, চরিত্র ও কাহিনির নতুনত্ব পাঠককে নিবিষ্ট করে তোলে উপন্যাস পাঠে। উপন্যাস পাঠের জন্য সময় এবং ধৈর্য প্রয়োজন হয়। কাহিনির পর কাহিনির যে বুনন তা যদি নিপুণ না হয় তবে আর সেই উপন্যাস পাঠযোগ্য হয়ে ওঠে না। চরিত্রগুলোর সাথে যদি নিজেকে মিলিয়ে ফেলা যায় তবেই সেই উপন্যাস সার্থক হয়ে ওঠে। অভাব, দারিদ্র্য, বঞ্চনা আর কল্পনার চতুর্মুখী প্রভাব বয়ল দেখা যায় এ উপন্যাসগুলোতে।
যেকোনো মহৎ সাহিত্য শুধু বিনোদন দেওয়ার জন্য নয়। এর মধ্য থেকে বিবেক-বুদ্ধিকে নাড়া দেওয়া হয়। মনুষ্যত্ববোধের চর্চায় সাহিত্যর বিকল্প নেই। আমাদের প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে তৈরি করতে এমন বইয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে খুব বেশি।