10 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 270TK. 232 You Save TK. 38 (14%)
"দুমুখো আগুন" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:
মানবীয় সম্পর্কের মাঝে শুভ বা অশুভ কোনাে দেয়াল কি স্থায়ী বাধা হতে পারে? কেন তা স্থায়ী হয়? কীভাবেই-বা কেউ কেউ সেই শক্ত দেয়াল টপকে
মানবীয় সম্পর্কের মাঝে ধর্ম, সমাজ এসব বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মানুষ নিজেকে তাদের সাথে মিলাতে গিয়ে টানাপোড়ন বা হিমশিম খায়।কিন্তু শুভ বা অশুভ কোন দেয়ালই স্থায়ী বাধা হতে পারে?তাহলে কি তা টপকে যাওয়া সম্ভব?এই আগুনে পুড়তে পুড়তে পরিবার,মানুষের ভিতর বাহির সব পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।এমনই এক কাহিনী নিয়ে দুমুখো আগুন উপন্যাস। আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে।
Was this review helpful to you?
By Nivea Haque, May 27, 2019
বই : দুমুখো আগুন।
লেখক : মোহিত কামাল।
মূল্য : ২৭০ টাকা।
পৃষ্টা : ১৪৩।
প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ।
প্রকাশনী : বিদ্যাপ্রকাশ।
"কেউ কেউ এইভাবে চলে যায় বুকে নিয়ে ব্যাকুল আগুন" আসলাই কি তাই? কবি হেলাল হাফিজ সত্যি কথাই বলেছেন। আগুনের এমনি শক্তি শুধু বাহির পোড়ায় না, নিদারুণ উত্তাপে পুড়িয়ে ছারখার করে অন্তরের ভেতরটাকেও। আর তা যদি হয় "দুমুখো আগুন" তবে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় সাজানো গোছানো সংসার
#কাহিনী_সংক্ষেপ
আসন্ন অবসর ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সায়মন চৌধুরীর জীবনেও ঘনিয়ে আসতে থাকে নানাবিধ সমস্যা। অফিসে অবস্থান বদলে যাওয়ায় বদলে যাচ্ছে চারপাশের মানুষের আচার আচরণও! স্ত্রীর সাথে কথা বলেও সেই একই সুর শুনতে পান তিনি। নাকি তিনি নিজেই ভুল ভাবছেন! সব আগের মতই চলছে অথচ নিজের অবস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় এলোমেলো ভাবনা মাথায় আসছে! কে জানে!
এমন এক সংকটময় মুহূর্তেই আরেক ভয়াবহ খবর পান সায়মন চৌধুরী। সায়মন চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে চাঁদনি থানা থেকে কল করেছে! বাসা থেকে বিয়ের কাবিননামা নিয়ে থানায় যেতে বলে তাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য ! খবর পেয়ে তিনি কিছু সময়ের জন্য হতবুদ্ধি হয়ে গেলেও খুব দ্রুতই তার ঘোড় কেটে যায়। পড়িমরি করে ছুট লাগালেন থানায়। জানতে পারেন মেয়ে শুভ্র নামের এক হিন্দু ছেলেকে গোপনে বিয়ে করেছে। আর তারে সাথে দেখা করতে গিয়েই এই ঘটেছে এই অঘটন!
বিয়ের প্রমাণ পেয়ে পুলিশ ওদের ছেড়ে দিয়েছে।
ওইদিকে এমন বিয়ের কথা শুনে শুভ্রর বাবা হার্ট এটাকে মারা গেছেন! মা আছেন আইসিইউতে।
এমন সংকটপূর্ণ মুহূর্ত কাটিয়ে উঠতে পারবে কি চাঁদনি আর শুভ্র? ভবিষ্যৎ কি হবে ওদের? ওরা কি সমাজসংসারের বেড়াজাল ছিন্ন করে টিকে থাকতে পারবে? নাকি দুমুখো আগুনের সর্বগ্রাসী আক্রমণে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে দুইটি পরিবার?
জীবন সায়াহ্নে ধেয়ে আসা ঝড় কিভাবে মোকাবিলা করবেন সায়মন চৌধুরী? জানতে হলে পড়ুন কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের "দুমুখো আগুন" বইটি।
#পাঠপ্রতিক্রিয়া : মানুষ আসলে অতি অদ্ভুত প্রাণী। সারা জীবন একজন মানুষের পাশে থেকেও হয়ত তাকে পুরোপুরিভাবে চেনা যায় না, জানা যায় না। তাই তো দেখা যায় এত বছর ঘর-সংসার করেও সায়মন চৌধুরী আসলেই তার স্ত্রীকে চিনতে পারেননি! নাকি স্ত্রী বুঝে উঠে পারেননি তার স্বামী সন্তানদের। এত আদর-যত্নে মানুষ করা ছেলেমেয়েকে বাস্তবিক অর্থেই কী মানুষ করতে পেরেছেন তারা? মেয়ের ভুল তারা মানিয়ে নিলেও অন্তর ক্ষতবিক্ষত হয়েছে কঠিন বাস্তবতার কষাঘাতে! একদিকে রয়েছে মেয়ের জন্য হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা। অন্যদিকে ভুলের জন্য জমা হওয়া অভিমান! কোনোটার টানই অস্বীকার করার উপায় নেই যেনো। পিতৃ হৃদয় এক অদৃশ্য সুনামিতে তলিয়ে যাচ্ছে, ভেসে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করেও সায়মন চৌধুরী তীর খুঁজে পাচ্ছেন না।
আর ঐদিকে, শুভ্র আর চাঁদনিও যেন একই সমান্তরাল রেখায় হেঁটে যাচ্ছে। অভিমান আর অপমানে যদিও ভালোবাসা তলানিতে পড়ে যায়নি কিন্তু দূরত্ব তৈরী হয়েছে দুজনের মধ্যে। এই দূরত্ব পাড়ি দিয়ে ওরা কি এক হতে পারবে? পুড়ছে সবাই দুমুখো আগুনে করাল গ্রাসে। সমাজসংসার - ধর্ম নাকি ভালোবাসা কার জয় হবে? দুমুখো আগুনের দহন থেকে মুক্তির কি কোনো উপায় নেই!?
অসাধারণ এক প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত এই গল্পটা আমার মত পাঠককেও মুগ্ধ করবে বলেই আশা করি।
💜💜💜 বই হোক ভালোবাসার প্রতীক 💜💜💜