8 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 160TK. 138 You Save TK. 22 (14%)
সারমর্ম
আয়েশা অভাবের তাড়নায় তিন বছরের শিশুপুত্র জামালসহ তিন সন্তানের জনক কদম আলীকে বিয়ে করে। শারীরিকভাবে অক্ষম সতীন নার্গিস প্রথমে আয়শাকে কোনো অবস্থাতেই মেনে নিতে চা
না ফেরার দেশটি এমন একটি দেশ, যেখানে কোন মানুষ গেলে আর কখনও পৃথিবীর বুকে ফিরে আসে না। এ দেশে কোন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যেতে পারে না, যেতে হলে সারাজাহানের সবচেয়ে অপ্রিয় স্বাদটি গ্রহণ করে যেতে হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে অপ্রিয় স্বাদটি হলো মৃত্যু স্বাদ।
পশ্চিমা বিশ্বের নারীরা তাদের স্বামীকে মর্যাদা বা গুরুত্ব কতটুকু দিয়েছে, সে তর্কে নাইবা গেলাম। আমাদের সমাজে নারীরা তাদের স্বামীদেরকে মাথায় করে রাখতে পছন্দ এবং স্বাচ্ছন্দবোধ করে। আমাদের বাঙালী সমাজে নারীরা তাদের স্বামীদেরকে মাথার উপরে আকাশের ন্যায় ছাদ মনে করেই সাত্বনা খুঁজে নেয়। ঘরের উপর থেকে চাল বা ছাদ সরে গেলে যেমনি করে ঝড়-বৃষ্টি-রোদ এমনকি দস্যু বাহিনীর হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করা যায় না। অল্প বয়সে স্বামী মারা গেলে নারীর উপর প্রথম আক্রমণটাই হয় তার সতীত্বের উপর। ঢাল-তলোয়ার ছাড়াই নারীকে তীক্ষ্ম বুদ্ধি খরচ করে কঠোর হাতে সতীত্ব রক্ষা করতে হয়। সতীত্ব এমনই একটা সম্পদ যা একবার লুট হয়ে গেলে হাজারও মন্দলোকের হাজারো রকমের কু-দৃষ্টি, টিপ্পনী কাটা কথা, নানা রকমের কু-প্রস্তাবের হাতছানি।
মকবুল মারা যাওয়ায় আয়েশার মাথার উপর রাজ্যের চিন্তা এসে ভর করেছে। একদিকে সংসারের প্রতিটি পরতে পরতে অভাবের বিষফোঁড়া বাসা বেঁধেছে, অন্যদিকে লুটেরাদের হাত থেকে নিজের রূপ-যৌবনকে রক্ষা করার জন্য যৌবন রসের উপর বাঁধ দিতে হচ্ছে। আজ প্রায় রাতেই আয়শা হাড় কাপানো ভয় নিয়ে রাত পার করে থাকে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হলেই টিনের উপর ঢিল মারার শব্দ, হাসি-কান্নার শব্দ শুনে আয়শা ভয়ে মুষড়ে পড়ে। আয়শা আল-কোরআনের বিভিন্ন সূরা পড়ে নিজের মধ্যে সাহস সঞ্চয় করে ঘুমিয়ে পড়ে।