অাপনি একটানা কতক্ষণ হাসতে পারেন? তাও যে সে হাসি নয়, বত্রিশ পাটি দাঁত বের করা অাকর্ণবিস্তৃত নিঃশব্দ হাসি? কয়েক সেকেন্ডের বেশি পারার কথা নয়। কিন্তু একটা ছেলে একটুও বিরতি না দিয়ে দিনরাত এভাবে হেসে চলেছে।
কখনো শুনেছেন একজন মানুষ নিজেকে ভালুক নামে পরিচয় দিচ্ছে। একজন রহস্যময় ব্যক্তি তা-ই করছে। যে কিনা নিজের নাম রেখেছে উর্সাস(ভালুক) অার পোষা নেকড়ের নাম রেখেছে হোমো(মানুষ)! নেকড়েটানা চার চাকার গাড়িতে করে সে ফ্রান্সের গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। অবশ্য এটাকে গাড়ি না বলে বাড়ি বলাই শ্রেয়। তার যা কিছু নিজের, সবই এ গাড়িতে করেই বয়ে নিয়ে চলে। পেশায় উর্সাস একজন ভ্রাম্যমাণ হাতুড়ে ডাক্তার। গাছগাছালির ফুল,লতাপাতা,শিকড় থেকে ওষুধ তৈরি করে ফ্রান্সের গ্রামবাসীর কাছে বিক্রি করে। সামান্য যা অর্থ পায়, তা দিয়ে নিজের ও নেকড়ের খাবারদাবারের খরচ চলে যায়। চোর-ডাকাতরাও জানে তার গাড়িতে মূল্যবান কিছুই নেই। তবুও কিসের ভয়ে যেন সে একমুহূর্তের জন্যও গাড়িটা চোখের অাড়াল করতে চায় না। ভাগ্যের ফেরে একদিন উর্সাসের দেখা হয়ে যায় হাস্যরত সেই অদ্ভুত ছেলেটির সাথে।
ফ্রান্সে যখন দুজন অদ্ভুত মানুষের দেখা হচ্ছে, ইংল্যান্ডে তখন ঘটছে অারেক ঘটনা। পেমব্রোক অঞ্চলের জমিদার , যিনি অার্ল নামে পরিচিত, তার একমাত্র ছেলে কোথাও হারিয়ে যাওয়ার পর বংশরক্ষার খাতিরে এক জ্ঞাতিকন্যাকে বাড়িতে এনে লালনপালন করতে থাকেন। মৃত্যুর অাগে কন্যা অ্যামেলিয়া প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অাইনজীবী বন্ধু রাসেলকে জমিদারিত্বের অভিভাবক করে যান অার্ল গুস্তাভ। রাসেলের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অ্যামেলিয়ার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব নিয়ে ছেলে ডেভিডের সাথে জমিদারবাড়িতে জাঁকিয়ে বসে লেডি রাচেল। সেই সাথে ডেভিডের সাথে অ্যামেলিয়ার বিয়ে দিয়ে ডেভিডকে অার্ল বানানোর স্বপ্নও দেখতে থাকে। কয়েকবছর পর ইউরোপভ্রমণের অংশ হিসেবে সবাই মিলে প্যারিস গেলে ডেভিডের বোকামির কারণে সে অপহৃত হয় ফ্রান্সের বিখ্যাত দস্যু অ্যালারিক দ্য গথের হাতে। মুক্তিপণ নিয়ে বৃদ্ধ রাসেল অ্যালারিকের ডেরায় গেলে অ্যালারিক তাকে একটা গল্প শোনায়। এমন একটা গল্প, যা পুরো কাহিনীর মোড় ঘুরিয়ে দিতে যাচ্ছে।