73 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 120TK. 109 You Save TK. 11 (9%)
ফ্ল্যাপে লিখা কথা
নিয়তি আর পুরুষকারের দ্বন্দ্ব মানুষের ইতিহাসের আদিলগ্ন থেকেই আমরা লক্ষ করি। মানুষ কি সর্বতোভাবে তার ভাগ্যের নির্মাতা, নাকি নিয়তির হাতে সে অসহায় ক্রীড়ানক
"রাজা ইডিপাস: নিয়তির ফাঁদে বন্দি এক সত্যসন্ধানী রাজা"
বই/নাটক: রাজা ইডিপাস
লেখক: সফোক্লিস, অনুবাদ: কবীর চৌধুরী
ধরন: গ্রিক ট্র্যাজেডি
প্রকাশনী: বুকস্ ফেয়ার
কাহিনীর থিমঃ
সফোক্লিসের ‘রাজা ইডিপাস’ গ্রিক সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি, যা মানুষের ভাগ্যের অদম্য শক্তি ও তার বিরুদ্ধে মানুষের অসহায়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। গল্পের শুরু অনেক আগে—থিবসের রাজা লেয়াস দৈববাণীতে শুনলেন, তার নিজের সন্তান একদিন তাকে হত্যা করবে এবং তার স্ত্রীকে বিয়ে করবে। এই ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী এড়াতে তিনি নবজাতক শিশুপুত্রকে পায়ে গর্ত করে বেঁধে মেষপালকের হাতে তুলে দিলেন মৃত্যুর জন্য। কিন্তু নিয়তির খেলা—শিশুটি করিন্থের রাজা পলিবাস ও রাণী মেরোপির হাতে পৌঁছাল, আর তাদের সন্তান হিসেবেই বড় হল ইডিপাস।
.
যুবক বয়সে দৈববাণীতে ইডিপাস নিজেও শুনল যে সে পিতাকে হত্যা করবে এবং মাতাকে বিয়ে করবে। নিজের পরিচয় ভুল ভেবে সে করিন্থ ত্যাগ করল, যাতে এই ভাগ্য এড়ানো যায়। পথে এক অচেনা বৃদ্ধের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে সে হত্যা করল বৃদ্ধকে—যিনি ছিলেন তার প্রকৃত পিতা, রাজা লেয়াস।
.
থিবসে পৌঁছে ইডিপাস স্ফিংসের ধাঁধার সমাধান করে জনগণকে মুক্তি দিল, আর কৃতজ্ঞ প্রজারা তাকে রাজা বানাল। রানি হলেন ইয়োকাস্তা—যিনি ছিলেন লেয়াসের বিধবা এবং ইডিপাসের নিজের মা। নিয়তির বৃত্ত পূর্ণ হল নিখুঁতভাবে, যদিও ইডিপাস কিছুই জানত না।
.
অতপর কিছু বছর পর থিবসে মহামারী ও মন্বন্তর দেখা দিলে এই মহামারীর কারণ উদঘাটনকল্পে সত্য উন্মোচিত হয়। সত্য উন্মোচিত হলে মা-স্ত্রী ইয়োকাস্তা আত্মহত্যা করেন, আর ইডিপাস অপরাধবোধে নিজের চোখ অন্ধ করে নির্বাসনে যায়। নাটকটি দেখায়-মানুষ যতই বুদ্ধিমান বা মহৎ হোক, ভাগ্যের ফাঁদ থেকে মুক্তি অসম্ভব।
"ইডিপাসের চোখ হয়তো অন্ধ হয়ে গেল, কিন্তু তার চেয়ে বড় অন্ধত্ব হলো সেই ভাগ্য, যা মানুষকে অজান্তেই নিজের ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।"
.
বিশ্লেষণ:
এস্কাইলাসের ব্যাখ্যায় এই মিথে লেয়াসের পূর্বপাপের প্রতিফলন দেখা যায়—তিনি এক ছেলেকে জোর করে অপহরণ করেছিলেন, আর সেই পাপের শাস্তি বংশের ওপর এসে পড়ে। সেখানে দেবতা জিউসের বিচার নির্মম হলেও অন্যায় নয়। কিন্তু সফোক্লিস এই নৈতিক যুক্তিকে আড়ালে রেখে ভাগ্যের অনিবার্যতা ও মানুষের অসহায়তাকেই মুখ্য করেছেন। তার নাটকে দৈববাণীর ভবিষ্যদ্বাণী নির্দিষ্ট ও শর্তহীন—যেন ভাগ্য একবার ঘোষণা করলে তা এড়ানোর কোনো উপায় নেই।
.
পাঠ-অনুভূতি:
শেষ পাতা পর্যন্ত ইডিপাসের প্রতি সহানুভূতি বজায় থাকে। তার বুদ্ধি, প্রচন্ড সাহস, সত্যানুসদ্ধানে তার অক্লান্ত প্রয়াস, গভীর দায়িত্বরোধ ও প্রজানুরাগ সবাই যেন নিয়তির কারসাজিতে শুধু তার দুঃখের ভান্ড পূর্ণ করে তোলে। সে অপরাধী হলেও, নিজের ইচ্ছায় নয়—বরং নিষ্ঠুর নিয়তির খপ্পরে পড়ে। সফোক্লিস এর ‘রাজা ইডিপাস’ পাঠককে ভাবতে বাধ্য করেন—মানুষ কি আসলেই নিজের ভাগ্যের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখে? নাকি আমরা সবাই ইডিপাসের মতোই পূর্বনির্ধারিত পথে হাঁটছি?
Was this review helpful to you?
By MD KHAIRUL, Sep 26, 2020
ধন্যবাদ রকমারি কে এতো সুন্দর একটা বই আমার নিকট পৌছে দেয়ার জন্য.......বইয়ের মান ১০০ তে ১০০