সৌখিন সাহিত্যের বিপরীতে গণমানুষের ও মার্কসবাদী সাহিত্যের চেতনা শ্রী সোমেন চন্দ হৃদয়ে ধারণ করে তার সাহিত্য চর্চা শুরু করে। গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সাহিত্যের পাশাপাশি কৃষক-শ্রমিকের কাঁধে কাঁধ রেখে রাজপথে নেতৃত্ব দেয় গণআন্দোলনের। সেই সোমেন চন্দকে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী মাত্র একুশ বছর নয় মাস পনের দিন বয়সে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই সোমেন সাহিত্যচর্চায় বেশকিছু অনবদ্য সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। তার “ইঁদুর” গল্পটি বিশ্ব সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ছোটগল্পের মধ্যে অন্যতম। রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও সোমেন তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। মাত্র একুশ বছর বয়সে সোমেন কমিউনিস্ট পার্টি সদস্যপদ লাভ করে এবং ই.বি.রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সে তার দায়িত্ব পালন করে। বাংলা সাহিত্যে প্রতিভাবান কমবয়সী সাহিত্যিকদের মধ্যে সুকান্ত যেমন কবিতায় বিখ্যাত তেমনি সোমেন বিখ্যাত ছোটগল্পে। সোমেনের মত প্রতিভাবান কথাসাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আজও অবহেলিত। এই প্রতিভাবান কথাসাহিত্যিক সোমেন চন্দ ১৯২০ সালের ২৪ মে ততকালীন ঢাকা জেলার টঙ্গি থানার আশুলিয়া গ্রামে তাঁর মাতুতালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার আদি নিবাস ছিল বর্তমান নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে। তাঁর পিতার নাম নরেন্দ্রকুমার, মাতা হীরণবালা। মাত্র চার বছর বয়সে সোমেন তার জন্মদায়ী মাকে হারায়। পরবর্তীতে তাঁর পিতা ছোট্ট সোমেনের প্রতিপালন করার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে টঙ্গির নিকটবর্তী ধউর গ্রামের ডাক্তার শরতচন্দ্র বিশ্বাসের মেয়ে সরযূবালাকে। প্রকৃতপক্ষে এই সরযূবালাই সোমেনকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা পালন করেন। সোমেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হওয়ার পর তাঁর কাছে অনেক গোপন কাগজপত্র থাকতো, তাঁর মা সেইসব কাগজপত্র অত্যন্ত যতœ সহকারে লুকিয়ে রাখতেন। ম্যাক্সিম গোর্কির “মা” উপন্যাসের পাভেলের মা’র চরিত্রের সাথে সোমেন তাঁর মা’র তুলনা করেছেন। সোমেনের অনেক গল্পেই তা ফুটে উঠেছে। এই গ্রন্থে লেখক সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন শ্রী সোমেন চন্দের সাহিতুকর্ম ও বিশ্বাস