এইতো সেদিন। সেদিন বৃহস্পতিবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাগ্রত ছাত্ররা দলে দলে পূর্ব বাংলা পরিষদ ভবনের দিকে যাচ্ছিল। সেখানে বাজেট সেশন। ছাত্ররা প্রতিবাদ জানাবে। প্রতিবাদ হলো, রাষ্ট্রের প্রধানতম অংশ পূর্ববাংলার সর্ব সাধারণের মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করতে হবে। রাষ্ট্রের শতকরা ছাপ্পান্ন জন মানুষ বাংলায় কথা বলে, বাংলায় হাসে, বাংলায় স্বপ্ন দেখে। মাতৃভূমির সন্তান নিজ মৃত্তিকার স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ ও শোভা নিয়ে যদি আনন্দ পায়, যদি মাতৃভূমির মহিমা নিয়ে বড় হবার স্বপ্ন রচনা করে, তবে অন্যায় হবে কেন? কিন্তু রাষ্ট্রের মহানায়করা ধর্মের নামে, সাম্প্রদায়িকতার ওজুহাতে রাষ্ট্রের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির আনন্দ ও আকাঙ্ক্ষাকে বিনাশ করতে চেয়েছিল। রাষ্ট্রের নায়ক জিন্নাহর নিজের কোনো মাতৃভাষা নাই, রাষ্ট্রের আরেক অধিপতি খাজা নাজিমুদ্দিন, যদিও বাংলাতে তাঁর জন্ম, কিন্তু পারিবারিক কারণে তিনি মাতৃভূমির ভাষাতে কথা বলতে জানেন না।