ভোলগা থেকে গঙ্গা অসংখ্য ইতিহাস ও পুরাণ গ্রন্থের সহায়তায় লেখা। ভাল লাগার মূল জায়গাটা হল এঁর একেবারে নৈর্ব্যাক্তিক ভাবে বলা খুবই আবেগবহুল কাহিনী। বইয়ের একটা কথা মনে দাগ কাটেঃ "এই পৃথিবী যদি তার বুকে ঘটে যাওয়া সব কথা বলতে পারত তবে ইতিহাস অন্য রকম হত।- হুবহু এমন ছিলো না , স্মৃতি থেকে লিখছি। কিন্তু কথাটার ভাবটা এইরকমই ছিল"।
আপাত দৃষ্টিতে সরাসরি অধ্যায়গুলি গল্পগুলির যোগাযোগ না থাকলেও আবার কোথায় যেন তারা ধারাবাহিক একটাই গল্প। প্রাচীন রাশিয়ান ঊনমানুষদের ধীরে ধীরে ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ার গল্প, আর্য জাতির উত্থানের গল্প, বৈদিক যুগের গল্প। সবার উপরে- মানুষের গল্প।
ইতিহাস নৃতত্ত্ব ও বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমনবৃত্তান্ত থেকে তথ্য উপাত্ত নিয়ে লেখক তার নিজস্ব ভঙ্গিতে গড়ে তুলেছেন ভোলগা থেকে গঙ্গা। এর শেষ রচনাটি শেষ হয়েছে এভাবে- " এখনও উঁচু নিচু জগতের মধ্যে যে বিভেদটুকু বজায় আছে আশা করি অদূর ভবিষ্যতে সে বিভেদও থাকবে না। সকলে মিলে সমান হয়ে যাবে সকলের পরিশ্রমলব্ধ ফসলের অন্ন সকলে গ্রহন করবে মিলেমিশে হাঁসিমুখে।
যারা প্রাচীন ইতিহাস, সমাজ ও নৃতত্ত্ব ভালোবাসেন তাদের জন্যে সবসময় সাথে রাখার মত একটা বই এই ভোলগা থেকে গঙ্গা।