"এসো অবদান রাখি" বইয়ের সংক্ষিপ্ত কথা: জনৈক ডক্টর থেকে শুনেছি তিনি বলেন, “যদি তুমি পৃথিবীকে কিছু দিতে না পারো তাহলে তুমি পৃথিবীর জন্য বোঝাস্বরূপ। পৃথিবীতে যদি তোমার কোন কর্মতৎপরতা, অবদান না থাকে তাহলে তোমার পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। আজকের বিশ্বে মুসলিমের সংখ্যা আপনি অনেক পাবেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কয়জন ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছে? ক’জন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে? যেসব লোক শুধু খাওয়া দাওয়া করে অলস সময় কাটায় তাদের সম্পর্কে ইবনুল জাওযি (রহঃ) বলেন, এরা মশা মাছির ন্যায় আমাদের সাথে রাস্তাঘাটে যানজট সৃষ্টি করে, বাজারে গিয়ে ভিড় জমায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে এবং আমাদের সময় নষ্ট করে। ডক্টর আরেফি এদেরকেই উদ্দেশ্য করে তাদের করণীয় সম্পর্কে আবহিত করেছেন। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তুমি এটা করতে পারো, ওটা করতে পারো… শুধু তোমার একটু হিম্মত, একটু আড়মোড় ভেঙ্গে এগিয়ে আসা দরকার। হাতের নাগালেই তোমার অনেক কিছু। বইটিতে সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা চাইলেই সবাই করতে পারে। নিজের ঘরে করতে পারেন। যে এলাকায় আপনি বসবাস করেন সেখানে করতে পারেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং আশেপাশের এলাকাতেও করতে পারেন।
"এসো অবদান রাখি" বইয়ের সূচি: ১. ইন্টারনেট : ইসলাম প্রচারের সুবর্ণ মাধ্যম.......৭ ২. ফিলিস্তিনের গাজা.......২৬ ৩. সালাত : গুরুত্ব ও তাৎপর্য.......৫০ ৪. মসজিদ আবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব.......৮১ ৫. সম্পর্ক রক্ষা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা ৬. শরয়ী ঝাঁড়-ফুক.......১১৩ ৭. অপরকে খুশী করুন.......১৩৭ ৮. ফজরের সালাতের গুরুত্ব.......১৫৮ ৯. প্রতিবন্ধিতা.......১৭৭ ১০. সর্বত্র কল্যাণ ছড়িয়ে দাও.......২০০ ১১. নেয়ামতের হেফাজত করুন.......২১৮ ১২. এতিমের মাথায় হাত বুলাও.......২৩৬ ১৩. পাগলকে অবজ্ঞা করাে না.......২৫৮
জন্য ২৩ জুন ১৯৮২। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত শাহরাস্তি থানার দেবকরা গ্রামে। পিতা মো. আবুল হোসেন ছিলেন সেনাবাহিনীর লোক; সেই সূত্রে এক যাযাবর জীবন। শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। যেখানেই গেছেন লেফট-রাইট আর দড়াম আওয়াজের স্যালুট তার পিছু পিছু ছুটেছে। পরিবারে অন্যান্য সদস্যদের ইচ্ছে ছিল তাকে সেনা অফিসার বানানোর। কিন্তু নাতিকে হাফেয বানানোর অসিয়ত ছিল মরহুম দাদা ওসমান গণির। মা ফেরদৌস বেগমের আশাও ছিল তাই। সুতরাং রাইফেল-উর্দির স্বপ্নকে চিরতরে বিদায় দিয়ে তাকে যেতে হয়েছিল হিফজখানায় ভর্তি হতে হয়েছিল ঢাকা জেলার শেষ প্রান্তে সংভারের সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা জামেয়া মাদানিয়া রাজফুলবাড়িয়ায়। হিফজ শেষ করে কিতাব বিভাগের প্রথম ক্লাশে পড়া অবস্থায় দীর্ঘ এক বন্ধ কেটেছিল দূর সম্পর্কের এক মামার বাড়িতে। সে বাড়ির বুক সেলফ থেকে প্রথমে নানা রকম বই পড়ার সুযোগ হয়েছিল তার। চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে দিয়েছিল বুক সেলফের সেই বইগুলো। পরে নজরুল ইসলাম পথিক নামের নিভৃতচারী এক সাহিত্যিক সুহৃদের মাধ্যমে লেখালেখির হাতেখড়ি ও প্রাথমিক কসরতটা হয়েছিল। উপরি উক্ত মাদরাসা থেকেই তিনি ২০০৫ সালে দাওরায়ে হাদিস পাস করেছেন। শিক্ষকতাও করেছেন সেই মাদরাসায়। এখনো নিয়োজিত আছেন একই পেশায়।