শঙ্খ ঘোষের গদ্যসংগ্রহ ২য় খন্ড
(কিছু অংশ)
এই মুহূর্ত
এই একটি মূহূর্ত চলে গেল, এটা কখনোই ফিরবে না আর, মুহূর্তই মূহূর্তের শেষ। এ-ভাবনাটা একদিকে একটা শূন্যতা নিয়ে আসে ; ঠিক। কিন্তু এইটেই তো আবার সঞ্চারক ভালোবাসারও বোধ? এইখানেই এটা শেষ, এ-কথা জানি বলেই নিঃশেষে পেতে চাই একে, কোনোখানে ফাঁক না রেখে, ভবিষ্যতের জন্য কিছু ফেলে না রেখে । আর তখন প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে উঠতে পারে সুন্দর। আনন্দে সুন্দর, বিষাদে সুন্দর।
এই মুহূর্ত কি ভবিষ্যৎ মুহূর্তের প্রতিশ্রুতি কোনো? না-ও হতে · পারে তা। বরং ভেবে নেওয়াই ভালো যে এ-অবস্থান প্রতিশ্রুতিহীন। তুমি বসে আছ, কিংবা আছ কোনো কাজের মধ্যে, আর তোমার সামনে, তোমার সঙ্গে, কোনো বন্ধু, কোনো নিকটজন বা আত্মজন, এ-মুহূর্তে তার নিবিড়তার কোনো শেষ নেই, সে বলছে, তুমি বলছ, কবিতার ভাষায় যেন মনে হচ্ছে, ‘জীবনে জীবনে তার শেষ নেই কোনো”, কিন্তু তখনই তুমি মনে মনে জান, অন্তত জানা ভালো যে এর শেষ আছে, এমন-কী পরের মুহূর্তটিই আসতে পারে বিপুল কোনো প্রতিঘাত নিয়ে, অনন্বয় নিয়ে। তাই প্রতিশ্রুতিহীন ভাবে, প্রত্যাশাহীন ভাবে, এই মুহূর্তটিকে তুমি ধরে নিতে চাও নিরাসক্ত কিন্তু কৃতজ্ঞ এক অঞ্জলিতে, আর তারপর কয়েকদিন কয়েকমাস কয়েকবছর পর তৈরি থাক সেই মুহূর্তটির জন্য, যখন তোমার এই ছেলেবন্ধু বা মেয়েবন্ধু, তোমার এই নিকটজন বা আত্মজন, তোমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, চিনতে পারছে না তোমাকে, স্বাভাবিক বা কৃত্রিম বিস্মরণে উপেক্ষা বা প্রত্যাখ্যান নিয়ে সরে যাচ্ছে তোমার সামনে থেকে। তখন কি তুমি মনে মনে একে ভাববে কোনো