Category:পশ্চিমবঙ্গের বই: রচনাসমগ্র ও সংকলন
বইটি বিদেশি সাপ্লাইয়ারের নিকট থেকে সংগ্রহ করতে ৩০-৪০ দিন সময় লাগবে।
সাধু কালাচাঁদ
দীর ঘাটে পর পর পাট বোঝাই বিরাট বিরাট নৌকো। একটার পর একটা। ঘাটে আর জায়গা নেই বলে ভৈরবের মাঝ গাঙ অব্দি নৌকোর সারি। চওড়া হাল। এক এক নৌকোয় তোলা উনুনে ঝাল দিয়ে শুঁটকি মাছের চচ্চড়ি হচ্ছিল। বাতাস এসে সে-গন্ধ ঘাটে দাঁড়ানো লোকজনের নাকে এসে লাগল। তাদের ভেতর জুবিলি স্কুলের কালাচাদ প্রামাণিক ছিল। ক্লাস সেভেন। রোল ইলেভেন। গন্ধ ওঁকেই খিদে পেয়ে গেল কালাচাদের।
আজ সারাদিন বিশেষ কিছুই খায়নি কালাচাদ।
সকালে জলখাবার খায়নি। খাওয়া হয়নি। মার খেয়েছে বাবার হাতে।
দুপুরে স্কুলে যাওয়ার আগে ভাত খায়নি। খাওয়া হয়নি। মার খেয়েছে মায়ের হাতে। স্কুলে টিফিন খায়নি। খাওয়া হয়নি। মার খেয়েছে ইতিহাসের স্যারের হাতে। এখন বিকেল বেলা। আর ঘণ্টা খানেকের মধ্যে সন্ধে হবে। বাড়ি গিয়ে পড়তে বসতে হবে। ঘণ্টা দুই চেঁচিয়ে রিডিং পড়লে তবে বাবা খেতে ডাকবে।
ঘরে বাইরে কালাচাদের এখন এত সুনাম—কেউ আর তাকে এমনিতে কিছু দেয় না। যা দেয়—তার নাম মার। হাতের সুখ করে মারে সবাই তাকে। বাবা মেরেছে পিঠের জামা তুলে। মা মেরেছে চাবির গোছা দিয়ে। ইতিহাস স্যার বেত দিয়ে। বাঁ হাতে চার বেত। ডান হাতে চার বেত। মারতে মারতে বলেছেন, এইভাবে মেরে তোর চরিত্র পাল্টাবো। বেত খেয়ে খেয়ে তুই শুদ্ধ হয়ে যাবি। হাতের রেখা মুছে গিয়ে তোর হাতে নতুন রেখা গজাবে। তখন তুই নতুন মানুষ। চাই কি বিদ্যাসাগর হবি। চাই কি রবীন্দ্রনাথও হতে পারিস। তোর ভাবনা কিসের। নে হাত পাত। আরেক যা মারি।
Report incorrect information