মূল বইটি (The Historical Role of Islam) বেশ পুরোনো, ভারত তখনও অখণ্ড ছিলো। দেশভাগের প্রায় দশবছর আগে প্রকাশিত হয় বইটি। লেখক ভারতের হিউম্যানিস্ট আন্দোলন ও রেনেসাঁর প্রবক্তা, বামপন্থি সেক্যুলার রাজনীতিবিদ, চিন্তাবিদ-মানবেন্দ্রনাথ রায়। তিনি ইসলামের সমর্থক নন, তবে চিন্তার জগতে সততা থাকায় ইসলামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ভূমিকা নিয়ে কলম না চালিয়ে পারেন নি। সেক্যুলার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে তিনি দেখিয়েছেন শুধু জাগতিক বিচারেও ইসলাম অনন্য। লেখকের ভাষায়, ইতিহাসে ইসলামের যথার্থ ভূমিকা এবং মানব সংস্কৃতিতে এর অবদান বর্তমান ভারতের বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের যথাযথভাবে জানা যথেষ্ট রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।
পাশাপাশি আক্ষেপ করেছেন উপমহাদেশের হিন্দুদের সংকীর্ণতা ও অজ্ঞতা নিয়ে নিয়ে। তিনি বাস্তবতা তুলে ধরে লিখেন,
ভারতের গোঁড়া হিন্দু, জনসংখ্যার দিক দিয়ে যারা এক বিশাল অংশ, তাদের কাছে উচ্চ বংশীয়, সুশিক্ষিত এমনকি সুউচ্চ সংস্কৃতির ধারক মুসলমানরা পর্যন্ত ‘স্লেচ্ছ', অসভ্য, বর্বরই রয়ে পেল ৷ নিম্নশ্রেগীর হিন্দুরা এদের কাছ থেকে যে সামাজিক আচরণ পায়, মুসলমানরা এর চেয়ে বেশি কিছু পেতে পারে বলে তারা মনে করে না। এই অদ্ভুত অবস্থার কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তাদের অহেতুক জাত্যাভিমানে; আক্রমণকারী বিদেশি বিজেতার প্রতি একটা বিজিত ও পীড়িত জাতির স্বাভাবিক ঘৃণার মধ্যে। যে রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এর উৎপত্তি তা সুদূর অতীতের ঘটনা। তবুও সেই অভিযান এবং সংস্কারবোধ এখনও এমন প্রবল যে, তা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কেবল বাধারই সৃষ্টি করল না, বরং নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইতিহাস বিচারেরও অন্তরায় হয়ে রইল। শত শত বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একই দেশে একই সাথে বসবাস করল, অথচ পরস্পরের সংস্কৃতি সভ্যতা সহানুভূতির সঙ্গে বোঝার চেষ্টাই করল না। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই আর পাওয়া যায় না l পৃথিবীর কোনো সভ্য জাতিই হিন্দুদের মতো ইসলামের ইতিহাস সম্বন্ধে এত অজ্ঞ নয়।
উপযোগ্য বই।