10 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 400TK. 369 You Save TK. 31 (8%)
"গণতন্ত্রের বিশ্বরূপ ও বাংলাদেশ" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:
১৯৯১ সালে সােভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসানের পর বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের জোয়ার নামে। কিন্তু যে আশা নিয়ে বিভ
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
অধ্যাপক বদরুল আলম খান বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের সার্বিক পথচলার সাথে সংযোগ ঘটাতে চেয়েছেন বাংলাদেশের। গবেষণাধর্মী গ্রন্থ।
গণতন্ত্রের অবস্থা সারাবিশ্বেই ভালো না৷ সোভিয়েটের পতনের পর গণতন্ত্রের হইহুল্লোড় পড়ে যাবে - এমনটাই ধারণা ছিল বিশেষজ্ঞমহলের। স্বৈরশাসক কিংবা কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্ত হওয়া রাষ্ট্রগুলো গণতন্ত্রমনা হতে গিয়েও হয়নি। কোথাও কোথাও গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে দিব্যি বেঁচেবর্তে আছে স্বৈরতন্ত্র। কেন এমনটি হলো? জনতার শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বৃহদার্থে তৃতীয় বিশ্বের পর্যায়ভুক্ত এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর বারবার হোঁচট খাওয়ার কারণই বা কী?
বদরুল আলম খানের গণতন্ত্র নিয়ে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য তথা বিশ্বাস রয়েছে। তিনি মোটাদাগে মনে করেন, গণতন্ত্র হঠাৎ করে কায়েম করা যায় না। এরজন্য চাই জাতিগত প্রস্তুতি। প্রয়োজন অনুকূল প্রেক্ষাপট। তাই আচমকা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চাপিয়ে না দিয়ে আগে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা বলেছেন এই অধ্যাপক। দরকার হলে স্বৈরাচার শাসকের অধীনে থেকেও গণতান্ত্রিক মনোভাবের সৃষ্টি করতে পারে এমন সুসময়ের জন্য অপেক্ষার পক্ষপাতী এই গবেষক। বাস্তবতার নিরিখে বিচার করলে তাঁর এই যুক্তি ধোপে বেশিক্ষণ টেকে না।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের হালচাল, সংকট এবং উত্তরণবিষয়ক নির্দেশনা থাকতে পারত এই বইতে। অন্তত বইটির শিরোনাম এই সাক্ষ্যই দেয়।
যথেষ্ট হতাশ হয়েছি। আগেই বলেছি এটি গবেষণাগ্রন্থ। স্বাদে তেতো হবে, এতো জানা কথা। কিন্তু সুনির্দিষ্ট করে লেখক যা বলতে চান, তা পাঠক হিসেবে আমাকে বোঝাতে পারেন নি। কারণ বলবো - লেখার ধাঁচ ছিল ছাড়াছাড়া। পাঠকের মনের সাথে যুক্ত হতে পারাটা ভালো বইয়ের লক্ষণ। বদরুল আলম খানের বইটি তা পারেনি। জনাবের বইটি আরো পরিপাট্য হতে পারত। তাহলে পাঠক সহজেই নিজেকে সাযুজ্যপূর্ণ মনে করতে পারতেন বইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে।
তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্তকতার অভাব লক্ষ করেছি। যেমনঃ অমৃতসরের জালিওয়ানবাগ হত্যাকান্ড ঘটে ১৯১৯ সালে। বইতে লেখা ১৯২০ সালে। আরো কিছু তথ্যবিভ্রাট চোখে পড়েছে। ভালো লাগেনি। একটি গবেষণাগ্রন্থেও যদি গুরুতর বিষয় নিয়ে এই ধরনের ভুল থাকে তা বিরক্তি উৎপাদন করবে যেকারোই।
একজন গবেষক দেখবেন বহুমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে। সাধারণ পাঠকের এ প্রত্যাশা করতেই পারেন। জনাব খান সবকিছুকে পশ্চিমাদের জায়গা থেকে বিশ্লেষণ করতে চেয়েছেন। এর ব্যতিক্রম হলে মন্দ হতো না।