কিছু গল্প আছে যেগুলো গল্প হলেও বাস্তবের মতোই,ঠিক যেমন অচিন পাখি বইয়ের ফরহাদের লিখা ডাইরিটা।
সব সময় সব মায়াই জড়াতে নেই,কিছু কিছু মায়া আছে যেগুলা অনুভব করলেও তার পত্তনের সুযোগ দেয়াটা নিতান্তই বোকামির পরিচয়। কিন্তু মায়া ব্যাপারটা অন্যান্য বিষয়ের থেকে আলাদা। কেউ আপনাকে কিছু বলছে আপনি সেটা না শুনার ভান করতেই পারেন কিন্তু মায়া, সেটা কোনো সময়ই সম্ভব না। মনের অজান্তেই কখন সেটা পরগাছার মতো আপনার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে আপনি বুঝতেও পারবেন না,যতোই আপনি সেটার পত্তনের বিরুদ্ধে থাকুন না কেনো।
ফরহাদের মতো এক অদৃশ্য মায়াই পড়ে নিজের জীবনটাকে নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। দেখে শুনে সময় নিয়ে সব কিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ,ফরহাদও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো কিন্তু অনেক দেরিতে।
মানুষ সুন্দরের পূজারি বহু আগ থেকেই কিন্তু সেই সুন্দরে কলঙ্ক থাকলে সেটা কেউ নিতে চাই না যেমনটা ফরহাদও নিতে চাই নাই ঋতুকে।
কারো জীবনে জড়ানোর পর (পুরোপুরি না জড়ালেও) তার সব কিছু জানার পর যদি বুঝতে পারেন তার পরবর্তীতে ভালো থাকার একমাত্র কারণ আপনি কিন্তু আপনার জীবনটা ওখানেই স্থবির, আপনি এর থেকে অনেক ভালো কিছু আশা করেন এবং অনেক ভালো কিছু আপনার হাতেও আছে,তখন আপনি কি করবেন?????তখন কি নিজেকে একজন দর্শক মনে করবেন নাকি অভিনেতা???
মায়া, সবই মায়া..................
(..........ঝুম বৃষ্টিতে এক হাত দুরের মানুষ না দেখা গেলেও দূর আকাশের চাঁদ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।এর পেছনে যুক্তিটা কি? যুক্তি খুজতে ইচ্ছা করছে না। যুক্তির বাইরেও মাঝেমাঝে কিছু ঘটে। কেউ একজন গভীর আনন্দে খেলার মতো করে এই ঘটনা সাজান। তাকে তার মতো খেলতে দেয়া উচিৎ।..........
........একাকিত্ব একটি জটিল ব্যাপার। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে যে মহান সত্ত্বা পরম আগ্রহে সব ঘটনা খেলার মতো করে সাজাচ্ছেন -তিনিও একা।সৃষ্টিলগ্ন থেকেই একা। তার জন্য একাকিত্ব জরুরি।........)
বি.দ্র.: হুমায়ূন আহমেদ এর প্রভাব লক্ষনীয়।