‘প্লোটোঃ রাষ্ট্রনায়ক’ বইটি বিশ্বের প্রাচীন দার্শনিক প্লোটো এর রাষ্ট্র, সংবিধান ও বিবিধ সংজ্ঞাবিষয়ক একটি সংলাপ নিয়ে লেখা অসাধারন একটি বই । খৃষ্টপূর্ব ৪২৭ খৃষ্টাব্দী তে জন্ম নেওয়া প্লোটো ছিলেন একজন গ্রিক দার্শনিক । তিনি ছিলেন সক্রেতিস এর ছাত্র ও দার্শনিক এরিস্টটল ছিলেন তার ছাত্র । এ হিসেবে প্রাচীন গ্রিসের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিনজন দার্শনিকের মধ্যে প্লেটো দ্বিতীয়। প্রথম সক্রেটিস এবং শেষ এরিস্টটল। এরাই পশ্চিমা দর্শনের ভিত রচনা করেছেন বলা যায়। প্লেটো একাধারে গণিতজ্ঞ এবং দার্শনিক ভাষ্যের রচয়িতা হিসেবে খ্যাত। তিনিই পশ্চিমা বিশ্বে উচ্চ শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এটি ছিল এথেন্সের আকাদেমি। প্লেটো সক্রেটিসের অনুরক্ত ছাত্র ছিলেন, সক্রেটিসের অনৈতিক মৃত্যু তার জীবনে প্রগাঢ় প্রভাব ফেলেছে। প্লেটোর জীবনে সবচেয়ে বেশি যিনি প্রভাব ফেলেছিলেন তিনি হলেন সক্রেটিস । তার জীবনে সক্রেটিসের প্রভাব অতি সুস্পষ্ট কারণ সক্রেটিসের সব কথোপকথন প্লেটোই লিখে গেছেন। শৈশবকাল থেকেই প্লেটোর সাথে সক্রেটিসের পরিচয় ছিল। বইটি অনুবাদ করেছেন আমিনুল ইসলাম ভুইয়া । বইটি প্রকাশিত হয় পাঠক সমাবেশ বাংলাদেশ প্রকাশনী থেকে এবং এর প্রকাশক সাহিদুল ইসলাম বিজু । প্রচ্ছদ করেছেন সেলিম আলফাজ । বইয়ের এই সংলাপটি কে সফিস্ট এর উত্তরখন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় । সমরুপী ও বিষমরুপী বিভিন্ন বস্তু ও প্রত্যয়ের বিভাজন ও সংজ্ঞায়নের মধ্য দিয়ে আদর্শ রাষ্ট্রনায়ককে খুজে পাবার উদ্যোগ হিসেবে রাষ্ট্রনায়ক সংলাপটি লে দেখা যেতে পারে । আদসশ রাষ্ট্রনায়ক না পেলে আইনের শাষনই দ্বিতীয়তম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করার যোগ্য । বইটি তে প্লোটো তার জ্ঞান থেকে রাষ্ট্রনায়ক সম্পর্কে বিস্তারিত লেখালেখি করেছেন যা এখনো আমাদের জন্য জানা থাকা দরকার । অসাধারন এ প্রাচীন বইটি আমাদের সকলের জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে দিতে সক্ষম তা বলা যায় ।