‘মার্কস ও মুক্তি’ টেরি ইগিলটন এর লেখা অসাধারন একটি বই । টেরি ইগলটন এর জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ সালে । তিনি একজন আইরিশ লেখক । ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময়ে তার মার্কসীর রাজনীতিতে হাতে খড়ি । অক্সফোর্ডে তিনি একটি র্যাসডিকেল গ্রুপ গড়ে তোলেন । বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ল্যানকেসটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক । তার লেখা মার্কস ও মুক্তি বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে । বইটি অনুবাদ করেছেন জাভেদ হুসেন । বইটি বাংলাদেশের অনুবাদ সংসদের পক্ষে প্রকাশিত হয়েছে সংহতি প্রকাশনী থেকে এবং এর প্রচ্ছদ করেছেন হাসান মারুফ । মার্কস কে ? তাকে কোন অর্থেই একজন দার্শনিক বলা যায় না । তিনি বরং দার্শনিক দের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেন । হেগেল ও এরিস্টটল কে দার্শনিক হিসেবে বিবেচিত করা হয় কিন্তু তাকে করার কোনো অবকাশ নেই । তিনি ঘোষনা দিয়েছিলেন দার্শনিকরা কেবল জগতকে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যখ্যা করেছেন ,আমাদের আসল কাজ হচ্ছে একে বদলানো । অবশ্য মার্কস চিন্তার জায়গায় ভাবনাহীন কাজ বসিয়ে দেওয়ার কথা বলেন নি , তিনি এমন একটি হাতে কলমের দর্শন চালু করতে চেয়েছেন যা সেই দর্শন যাকে বুঝতে চাইছে তাকে রুপান্তর করতে সাহায্য করবে । মার্কস যখন চেতনা ও বস্তু জগতকে এক সাথে বাধতে চেয়েছেন তার এক রাজনৈতিক অর্থ আছে । মার্কসের কাছে আমরা তখনই সবচেয়ে বেশি মানবিক এবং সবচেয়ে কম জান্তব যখন আমরা কোন প্রত্যক্ষ বস্তুগত চাহিদার থেকে স্বাধীন হয়ে মুক্ত, উদারভাবে উৎপাদন করি । অসাধারন এ বইটি পড়লে আমাদের মধ্যে মার্কসবাদী চেতনা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারনা আসবে ।