নীতিবাক্য শোনায় যারা
তারাই নীতি ভ্রষ্ট
ওদের নীতির গ্যাঁড়া কলে
সুশীল সমাজ নষ্ট!
দিনকে তারা রাত বানায়
রাত কে বানায় দিন
তবু নাকি জাতি আছে
ওদের কাছে ঋণ!
ওদের আছে চাপাবাজি
কাজের বেলায়
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
মরছি রে মরছি, মানিক চক্রবর্তীর একটি রম্য ছড়ার বই। বইটি অমর একুশে বইমেলা ২০১২-তে প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে রয়েছে ২৬টি ছড়া। ছড়াও যে বাংলা সাহিত্যে একটি সমৃদ্ধ স্থান দখল করেছে, তা মানিক চক্রবর্তী প্রমাণ করেছেন। কেননা মানুষের জ্ঞান-উপলব্ধি ও চেতনার প্রকাশ হলো সাহিত্য। প্রত্যেক লেখকেরই স্বাভাবিক চোখের অন্তরালে আরো দুটি চোখ থাকতে হয়। যেখানে সাধারণের দৃষ্টি রুদ্ধ। সেখানেই লেখকের দৃষ্টি প্রখর হয়ে আলো ছড়িয়ে সব দেখতে পায়। অন্তরালের দেখা সেই রূপ, রস, গন্ধ পরখ করে নিজের অনুভ‚তির রসে রাঙিয়ে সাহিত্যিক বিশ্বসত্তাকে প্রকাশ করে থাকেন। মানিক চক্রবর্তীর প্রতিটি ছড়ায়ই সে ধরনের সার্থক চিত্রকল্প ফুটে উঠেছে।
তা ছাড়া একজন শিল্পী যেমন একাধারে দ্রষ্টা তেমনি স্রষ্টা। সাধারণের চেয়ে একজন শিল্পী অনেক বেশি দূরে দেখতে পান। তাই তার সাহিত্যকর্ম অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। মানিক চক্রবর্তীও দেখেছেন নীতিবাক্য যারা শেখায় তারা নীতিভ্রষ্ট। দেখেছেন শহরের ময়লা-আবর্জনা, ডাস্টবিনের গন্ধ। আর গ্রাম কত সুন্দর। তিনি দেখেছেন এটা শহর নয়। এটা যেন পাথর ঘষা আগুন। তাইতো শিমুল ফোটা ফাগুন দেখতে পান না। গ্রাম আর শহরের মধ্যে এই যে প্রাকৃতিক পার্থক্য। আবার জনগণের সেবার নামে রাজনীতিবিদরা কীভাবে কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করছে। অথচ দেশের মানুষ কষ্টে মরছে, যা মানিক চক্রবর্তী এভাবেই তুলে ধরেছেন-‘এমপি থেকে মন্ত্রী হয়ে/ দেশটা করে সাবাড়/ তাই জোটে না বাংলাদেশের/ আমজনতার খাবার।’ আবার মজুতদারদের কী শাস্তি হওয়া উচিত তা ব্যঙ্গ করে রসে ভরে প্রকাশ করেছেন। কীভাবে অল্প আয়ের মানুষের ঋণ করে আর টানাপড়েনে দিন কাটে। আবার লিখেছেন নগরপিতার কর্মকান্ড সম্পর্কে-‘লোডশেডিং-এর অন্ধকারে/ নাই জনতার ঘুম/ মিছিল করে চলছে মশার/ রক্ত খাওয়ার ধুম।’ তার দেখা দৃষ্ট বস্তু সত্য ও সুন্দরকে নতুন আঙ্গিকে রূপ-রস দিয়ে অসাধারণ করে পাঠকের হৃদয়পটে প্রবেশ করাতে সক্ষম হয়েছেন। এটা প্রত্যেক লেখকেরই নিজস্ব শক্তি। শক্তিমান লেখকরাই পারেন আপন রঙের চেতনায় রংহীন এক বস্তুকে রাঙিয়ে তার সাহিত্যকর্মে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করতে। বর্তমানে ছড়া সাহিত্যিকদের মধ্যে মানিক চক্রবর্তী অন্যতম একজন শক্তিমান ছড়া সাহিত্যিক। তার লেখা সব মহলেই প্রশংসিত। মরছি রে মরছি তার প্রকাশিত চতুর্থ ছড়াগ্রন্থ। বইটি প্রকাশ করেছে।
বইটির প্রতিটি ছড়ার সঙ্গেই রয়েছে ছড়ার বিষয়ভিত্তিক অলংকরণ, যা সব পাঠককেই ছড়ার বিষয়বস্তু বুঝতে সহজ করে দেবে। ছড়াগুলো রম্যরসে রসগোল্লার মতো রসে ভরা। সব শ্রেণির পাঠকই আনন্দ পাবেন। আবার নিজের অনুভ‚তি দুঃখ-কষ্ট-বেদনা একান্ত মনের কথা সবই খুঁজে পাবেন।
- শামস সাঈদ, কবি ও লেখক