কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, দ্রোহ ও তারুণ্যের প্রতীক প্রেমের কবি ; এবিএম সোহেল রশিদ-এর কবিতার বই ‘আগুন ঠোঁটের ঘ্রাণ’ নিয়ে লিখেছেন
..........................................
কবিতার বই : আগুন ঠোঁটের ঘ্রাণ
লেখক : এবিএম সোহেল রশিদ
প্রচ্ছদ শিল্পী : চারু পিন্টু
প্রকাশক: বাবুই প্রকাশণী
একুশে বই মেলা’১৮ স্টল নং ৪০৫
আর এখানে ঋণহীন পড়ে আছে জীবিতের লাশ
আর না পড়া একটি মহাকাব্যের দীর্ঘশ্বাস
এই দু’টি লাইন একটি কবির ভাবনা ও শক্তিমত্তাকে বুঝতে যথেষ্ট। এবিএম সোহেল রশিদ লিখছেন তিন দশক ধরে।....... গ্রন্থের নামেও আছে নতুন উৎপ্রেক্ষার দ্যোতনা ‘আগুন ঠোঁটের ঘ্রাণ’
এবিএম সোহেল রশিদ নরনারীর সম্পর্ক ও যাপিত জীবনের না না অনুভূতি অনুষঙ্গ নিয়ে কাজ করেছেন। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মহত্তম অর্জনকে তিনি তুলে আত্মজৈবিক জীবনের চালচিত্র-যখন তারই পিতা আত্মাহুতি দেন জীবনের বেদিমূলে-- তিনি যথাযথই উচ্চারণ করেন-
ভোরে সূর্যফোটার আগে/ শহর ছেড়ে
দলবেঁধে অজানার পথে/ আমার বাবা
স্বাধীনতা আনতে গেছে-
স্বাধীনতা আনতে যাওয়া বাবার পুত্র তিনি। আর্গোনেটদের মতো স্বর্ণমেষের খোঁজে তিনিও বেড়িয়েছেন, তবে স্বর্ণমেষ নয় স্বর্ণশব্দ বা স্বপ্ন। এবিএম সোহেল রশিদের স্বপ্ন-
ভালোবাসার রঙে নতুন শব্দাবলী অর্জনে
ফোঁটায় ফোঁটায় ওড়াবো বর্ণমালার সুখ
বর্ণমালা বয়নে যে আনন্দ যে আবেগের স্ফুরণ তা কবি মাত্রই জানেন আর একজন তরুণ কবির বেলা তা আরও প্রবল। স্টিভেনশন যেমন বলেন- একজন লেখক কবির মোহিত করার ক্ষমতা ছাড়া বাকি সবই নিরর্থক। তবে বলতেই হয় এবিএম সোহেল রশিদ কাব্যশক্তিতে তাঁর অনেক চরণে মোহিত করার ক্ষমতা প্রবল। অক্ষরবৃত্তের প্রবহমানতায় তিনি সাবলীল।। অধুনা তার সমকালে ছন্দত্যাগের যে সংগ্রাম অনেক তরুণের মধ্যে প্রবল, তিনি তার বাইরে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেন ‘ছন্দ’ কবিতার প্রথম দরোজা। এবিএম সোহেল রশিদ কবিতার দরজায় দাঁড়িয়ে করাঘাত করছে। কাব্যদেবী দরজা খুলবেই এমন আত্মবিশ্বাস তার গ্রন্থের প্রতিটি চরণে সমুদ্ভাসিত।
- কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন