বেগম রোকেয়া তার নিজস্ব প্রকাশভঙ্গি, স্বকীয়তা ও স্বীয় বৈশিষ্ট্য দ্বারা সমসাময়িক নারীদের সাহিত্যকর্ম অতিক্রম করতে সক্ষম হন। এ-প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাহিত্যিক কাজি আবদুল ওদুদ বলেন, “বাস্তবিকই মিসেস আর. এস. হোসেন (রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন) একজন সত্যিকার সাহিত্যিক, তার একটি বিশিষ্ট Style আছে। সেই Style-এর ভিতর দিয়ে ফুটেছে তার তীক্ষ্ম দৃষ্টি আর কান্ডজ্ঞান আর বেদনাভরা অথবা মুক্তি অভিসারী মন।” বেগম রোকেয়া বৈচিত্রপূর্ণ সাহিত্যজীবনে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যোগ্য হচ্ছে ‘মতিচুর’ (১ম ও ২য় ক্ষন্ড), ‘Sultana’s Dream’ বা ‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘পদ্মরাগ’ ও ‘অবরোধবাসিনী’। এ-সমস্ত গ্রন্থ রোকেয়ার কাব্যপ্রতিভার স্বাক্ষর বহন করেছে। তার কবিতাগ্রন্থের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্যোগ্য ‘বাসিফুল’, ‘শশধর’, ‘চাঁদ’, ‘নলিনী ও মুকুদ’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘সওগাত’, ‘আপীল’, ‘নিরূপম বীর’। এ-ছাড়া তিনি কয়েকটি ব্যঙ্গধর্মী রচনা লেখেন, যেমন ‘পরী-ঢিবি’, ‘তিনকুড়ে’, ‘বলিগর্ত’, ‘পঁয়ত্রিশমণ খানা’, ‘বিয়েপাগলা-বুড়ো’। প্রবন্ধকার হিসেবেও তিনি যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। তার রচিত প্রবন্ধের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘সিসেম ফাঁক’, ‘চাষার দুক্ষু’, ‘এন্ডিশিল্প’, ‘বঙ্গীয় নারী শিক্ষা সমিতি’, ‘লুকানো রতন’, ‘রাণী ভিখারিণী’। এ সমস্ত প্রবন্ধাদি রোকেয়া রচনাবলিতে সংকলিত হয়েছে।