কবিতার ভাষা ও ভঙ্গি দিয়েই নিজের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরেছেন— এমন কবির সংখ্যা তো খুব বেশি নয়, কিন্তু পিয়াস মজিদ সেই ব্যতিক্রমীদেরই একজন। তাঁর নবতম কাব্যগ্রন্থ নিঝুম মল্লার পাঠান্তে এই সিদ্ধান্ত আরো পোক্ত হয়। তাঁর কবিতায় পাঠক হয়তো কোনো নির্দিষ্ট চিত্রকল্প বা সীমাবদ্ধ দৃশ্য খুঁজে পাবেন না। তবে সেখানে মিলবে এক অন্যরকম ধ্যানী কাব্যভাষা, যেখানে বাঁধাধরা রূপকল্পে নয় বরং সংগীতের সুরের মতো তাঁর অন্তর্গত বোধ কবিতা-পাঠকের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। কবি এক্ষেত্রে খানিকটা স্বল্পবাকই, মৌনি-হট্টগোলের ভেতর ক্রমাগত চুরমার হতে-থাকা পৃথিবীকে তিনি দেখেন নৈঃশব্দ্যের আড়াল দিয়ে। প্রথাগত প্রক্রিয়ায় শব্দকে অতিরিক্ত ও অতি রিক্ত-ভাবে ব্যবহার করবার বদলে নৈঃশব্দ্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রত্নভাষাকে রচনা করে চলেন সযত্নে-সুতীক্ষ্ণভাবে। শব্দের বদলে নৈঃশব্দ্যের ব্যবহারে, অধিক কথার বদলে স্বল্পতার সংকেতে পাঠকের অনুভূতির এন্টেনাকে তিনি ঘুরিয়ে দেন নতুন কাব্যঘ্রাণের দিকে; এক স্বাপ্নিক অথচ অনুপেক্ষণীয় অন্য ধরনের কবিতার জগতের দিকে।