‘নীলগিরির আতঙ্ক' বইটি কেনেথ এন্ডারসনের লেখা একটি শিকার কাহিনীর বই । কেনেথ এন্ডারসন এর জন্ম ১৯১০ সালে । তিনি একজন প্রখ্যাত শিকারি ও লেখক। তিনি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন বনে দীর্ঘকাল ধরে বহু মানুষখেকো বাঘ ও চিতা শিকার করে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়েছেন । দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন বনে দীর্ঘকাল শিকারের অভিজ্ঞতার আলোকে এন্ডারসন শিকার ও এডভেঞ্চার বিষয়ক বহু গ্রন্থও লিখেছেন । এন্ডারসন বিশপ কটন বয়েস স্কুল থেকে পাশ করে ব্যাঙ্গালুরুস্থ সেইন্ট জোসেফ কলেজে অধ্যয়ন করেন । শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ব্যাঙ্গালুরুস্থ তৎকালীন ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট ফ্যাক্টরিতে ফ্যাক্টরি ম্যানেজার পদে চাকরী করেন। এন্ডারসন প্রায়ই নিরস্ত্র অবস্থায় জঙ্গলে চলে যেতেন বলে তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন। সেখানে যেয়ে বন্দুকের ট্রিগার টানার চাইতে ক্যামেরার শাটার টেপাই এন্ডাসনের বেশি পছন্দ ছিল। এন্ডারসন একজন দক্ষ ট্র্যাকার ছিলেন। তিনি নিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষখেকো বাঘ বা চিতার পায়ের ছাপ অনুসরণ করে প্রচুর মানুষখেকো হত্যা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত কিছু শিকারের মধ্যে রয়েছে মাইসরের শ্লথ ভাল্লুক, জওয়ালাগিরির মানুষখেকো বাঘ, সেগুরের মানুষখেকো বাঘ, মুন্ডাচিপাল্লামের মানুষখেকো বাঘ ইত্যাদি। তার লেখা এই শিকার কাহিণীর বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন ইশতিয়াক হাসান । বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে । বইটি প্রকাশিত হয় ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে এবং এর প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ । কেনেথ ছিলেন একজন স্কটিশ , কিন্তু তাদের কয়েক পুর্বপুরুষ এর বাস ছিলো ভারতের হায়দারাবাদে । তুলনামুলক ছোটখাটো মানুষ কেনেথ যখন অরন্যে প্রবেশ করতেন তখন তাকে দেখলেই বোঝা যেত সে সাধারন কেউ নন । তিনি দক্ষিন ভারতের জঙ্গলের নীলগিরি পর্বতের পাহাড়ের পাদদেশের অসহায় গ্রামবাসীদের অসংখ্যবার রক্ষা করেছেন মানুষখেকো বাঘের থেকে । তার এইসব রোমাঞ্চকর বাঘ শিকার এর কাহিনী নিয়েই লেখা অসাধারন এ শিকার কাহিনী , যা পাঠকদের নিকট দারুন লাগবে ।