বেসরকারী টিভি চ্যানেলে কাজ করে সাদী। একদিন কাজ সেরে বাসায় আসার পর জানালার চুম্বকের সাথে আটকে থাকতে দেখে পিঁপড়ার মত ছোট্ট একটা প্রানীকে। প্রানীটাকে মুক্ত করার সাথে সাথে ছোট্ট একটা বস্তু পায় সে। সাত পাত কিছু না ভেবে ব্যাগের ভেতর রেখে দেয়। আর তারপরই ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা। নষ্ট লিফট আচমকা ঠিক হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট গাড়ি পর্যন্ত স্টার্ট নিচ্ছে। বিষয়টা ঠিক কি জানতে হলে পড়তে হবে বইটার তৃতীয় গল্প।
হ্যা ঠিক ধরেছেন এটা একটা গল্প গ্রন্থ। মোট ১৫ টি গল্প দিয়ে সাজানো অসাধারণ বইটি আমার ভীষন ভালো লেগেছে। বইটার নামকরণ করা হয়েছে বইয়ের ৯ নাম্বার গল্পের নামানুসারে। আপনি যদি খুব ভালো করে প্রচ্ছদ লক্ষ্য করেন তাহলে ঝুলন্ত টেলিফোন দেখতে পারবেন। মূলত ঘটনার অনেক অংশ জুড়ে কথা বলার এই যন্ত্রটার কথা আছে।কথা বলা হয় কার সাথে জানেন? লেখকের তৈরী নিজের চরিত্রের সাথে।
তবে আমার কাছে যে বিষয়টা সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেটা হল "নিয়তির টানে"নামে বইয়ের ৬ নাম্বার গল্প। যেখানে খুব দারিদ্র্য এবং অসহায় একটি পরিবারের কথা বলা হয়েছে। পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে ফালুনী। ছোট থাকতেই বাবা মারা যায়। অভাবের সংসারে যেখানে ফালুনী আর তার মায়ের ঠিকমতো চলে না সেখানে আরোও বাড়তি সদস্য আছে। আর সবার মুখের খাবার জোগাড় করতে হয় ফালুনীর মাকে যেটা তার জন্য অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু তারপরও নিজের সাথে যুদ্ধ করে পেটের ভাত যোগাচ্ছেন। মাঝে মাঝে ফালুনীর মনে হয় মায়ের হাতের ভাত না খাওয়াই বোধহয় ভালো কেননা মা তার ওপর অত্যাধিক বেশি অত্যাচার করেন। এই যেমন আজ ছাগল আনতে মাঠে এসেছে, যদি সময়মতো ছাগল নিয়ে বাড়ি যেতে না পারে তাহলে হয়তো আগের থেকেও অনেক বেশি মার খেতে হবে।
কিন্তু ভাগ্য খারাপ, ছাগল দৌড়ে বনের মাঝে ঢুকে গেলো। ছাগল খোজার জন্য তার নিজেরও বনের মাঝে ঢোকা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা বলে সিন্ধান্ত নিতে দেরী করলো না। কিন্তু সিন্ধান্ত নেওয়াটা কত বড় ভূল ছিল সেটা বুঝতে পারলো বনের মাঝে এক তান্ত্রিক সাধককে দেখে।
এখান থেকেই ফালুনীর জীবনটা একেবারেই অন্যরকম হয়ে যায়। সেটা ভালো নাকি মন্দ বিষয়টা বলছি না। তবে বেশ ইন্টারেস্টিং।
পাঠ_প্রতিক্রিয়া :
বর্তমান আমি নারায়ণগঞ্জে আছি, আর যখন জানতে পারলাম লেখিকা নারায়ণগঞ্জের তখন বইটা পড়তে আর দেরী করলাম না। যদিও লেখিকাকে এ পর্যন্ত দেখিনি তবে দেখা একদিন নিশ্চয়ই হবে। আর গল্প গুলো বিষয়ে আলাদা করে বলার কিছু নাই যদিও গল্প ক্যাটাগরির থেকে উপন্যাস আমার বেশি প্রিয়। তারপরেও পড়েছি এবং আমার ভালো লেগেছে। গল্প গুলো অবশ্য অনেক আগেই রহস্য পত্রিকা সহ আরোও বিভিন্ন পত্রিকায় বের হয়েছিলো। যাইহোক আমার ভালো লেগেছে, আশাকরি আপনাদেরও লাগবে।