ডা. শাফিয়া শারমিনের লেখা গল্পগ্রন্থ ‘একা একা ’। বইটির একটি চমৎকার গল্প ‘যেখানে আকাশ নীল’ এর কাহিনী সংক্ষেপ- নীল ছবিটার ফিনিশিং টাচ দিচ্ছিল। কিন্তু আমি ক্রমেই অধৈর্য হয়ে ঊঠছিলাম ৷ আমাকে তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে। আমি আর বেশিক্ষণ থাকতে পারব না ৷ সারসংক্ষেপে যতটুকু বলা যায় আমি বলে ফেলি ৷ নীল এক মুহূর্তে কী যেন ভাবে তারপর আবার ছবি আঁকার মন দেয় ৷ আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থেকে বিরক্ত হয়ে বলি, ‘তুমি কি কিছুই শুনলে না, নাকি বুঝলে না?’ ইজেলে রঙের প্রলেপ দিতে দিতেই নীল বলে, ‘ ছেলে কি তোমার পছন্দ হয়নি?’ নীলের কথা শুনে আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়, রাগের বশে হাতের কাছে থাকা রঙের পাত্রটা ওর দিকে ছুড়ে দেই ৷ পাত্রটা নীলের গায়ে না লেগে দেয়ালে গিয়ে বাড়ি খায় ৷ কিছু রং ছিটে এসে নীলের চোখে-মুখে লাগে আর কিছু রংয়ের ছিটেফৌটা লাগে ওর সদ্য আঁকা ছবিটার ওপরে ৷ নীল এবার খুব রেগে যায় কিন্তু ও কখনো রাগ প্রকাশ করে না, রাগের বহিঃপ্রকাশ আর ভালোবাসা আতিশয্য দুটোই ওর অপছন্দ ৷ রুক্ষস্বরে শুধু বলে, ‘ এই ছবিটা আঁকতে আমার দীর্ঘ একমাস লেগেছে ৷ আর নষ্ট লাগল এক সেকেন্ড ৷ এখানেই তোমার আমার পার্থক্য। তুমি সাহিত্যের মানুষ আর আমি চারুকলার ৷ এতক্ষণে আমার মাথা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। আমি শান্তভাবে বলি, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে ৷ কিন্তু তোমারও অন্যায় আছে। সব জেনে শুনেও তুমি বলছো ছেলে পছন্দ হয়েছে কিনা ৷ তুমি কি জানো না আমার পছন্দ কী? আমি কেবল তোমাকে ভালোবাসি নীল ৷ সাহিত্য আর চারুকলাকে তুমি আলাদা করে দেখছো কেন? দুটোই তো শিল্প ৷’ দেখো রূপ তোমার-আমার জীবনের লক্ষ্য আলাদা ৷ সেজন্য আমাদের চলার পথও আলাদা। তুমি বিসি'এস দিয়ে শিক্ষকতা করতে চাও, পত্রিকায় কলাম লেখো ৷ আমি জানি তোমার স্বপ্ন একজন সফ্ফা অধ্যাপক হওয়া যার জ্ঞানের আলো পরিধি ছাড়িয়ে যাবে ৷ আর আমি একজন বোহেমিয়ান, জল রং, তেল রং নিয়ে পড়ে আছি ৷ চাল চুলো কিছু নেই ৷ কোনো চাকরি-বাকরি নেই ৷ তাছাড়া আমার চাকরি করার ইচ্ছেও নেই তা তুমি ভালো করেই জানো ৷ ধরাবাধা জীবন আমি চাই না……………….