কবি ও গবেষক রাজীব মীর। তাঁর নিয়মিত শিক্ষণ প্রশিক্ষণের অনুষঙ্গ ইতিহাস ও ঐতিহ্য ৷ আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার লেখনী সোচ্চার ও প্রতিবাদী কণ্ঠ৷ তিনি উপস্থাপনা করতে ও গান গাইতে ভালবাসেন ৷ ভ্রমণ ও ফটোগ্রাফী তার নেশা ৷ লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ রাজীব মীরের লেখা ‘প্রেমে পড়েছে পাথর’ বইটি সম্পর্কে বলেছেন- ‘‘প্রেমে পড়েছে পাথর’ রাজীব মীরের দ্বিতীয় কবিতার বই৷ তিনি্ রোমান্টিক কবি, তবে সচেতন রোমান্টিক ৷ তার প্রেমিকা যে নারী তার সঙ্গে তাঁর শুধু ভালোবাসার কথাবার্তা নয়; অভিমান, প্রেম-বিরহের কথা নয়; সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষ নিয়েও কথা হয়৷ একজন সচেতন আধুনিক মানুষের মতো রাজীব মীরের চোখে পড়ে সমাজের অন্যায়-অবিচার ও শঠতা৷ তিনি শব্দ-ব্যবহারে সতর্ক৷ এ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে উঠে এসেছে ব্যক্তির আবেগগ-অনৃভূতির
সঙ্গে সমষ্টির সমস্যাও ৷ কঠিন কথাকে সহজ ভাষায় তুলে ধরার কৌশল রাজীব মীরের আয়ত্ত৷ ষাটটি কবিতা পাঠককে শুধু আনন্দই দেয় না ভাবায়ও৷ তার সাফল্য কামনা করি।
বইটির একটি কবিতা ‘চিঠিটি পোস্ট করিনি’-
মরে যাব করে করে, কিছুই আর করিনি
মাটি ফ্লাটি ব্যাৎক নাহ্ ! কিচ্ছু জমইিনি ৷
বেঁচে থাকার জন্য কত কিছুই তো লাগে
আমার লাগেনি ৷
খুব যে কবিতা সাহিত্য পুঁথিতে জীবন ভরিয়েছি
এমনও নয় ৷
মরে যাব করে করেই পড়ে থেকেছি
বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছি,
গান শুনেছি পেট ভরেছি
হৈ হৈ করে ঘুরে বেড়িয়েছি
প্রাণ দিয়ে হাত বাড়িয়েছি আর
জাদু চোখে প্রেম করেছি ৷
মরে যাব করে করেই তোমাকে পেয়েছি
তোমাকে ছেড়েছি, প্রেম ছাড়িনি
মরে যাবো করে করেই
তোমার চুলের গন্ধ
মাটির ব্যাংকে বন্ধ রেখে
বেলি চাঁপার চাষ করেছি!
গাছের ছায়ায় বাসা বেঁধেছি ৷
মরে যাব বলেই মন পুড়েছি
মরে যাব বলেই মন ভুলেছি
মরে যাওয়ার কাল শেষ হয়নি
মরে যাব, আমি মরেই গেছি
মনটা যদিও মরেনি।