12 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 160TK. 109 You Save TK. 51 (32%)
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
#রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
আমাদের ময়মনসিংহ অঞ্চল যে কিছু বিষয়ের জন্য অনন্য ও বিখ্যাত তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মৈমনসিংহ গীতিকা। যার কাহিনীগুলো আমাদের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা দেশে। সেগুলোরই দুটি অন্যতম কাহিনী হলো 'মহুয়া' আর 'দেওয়ানা-মদিনা'
মহুয়াঃ
হিমালয়ের বহু উত্তরে জনমানবহীন ও শ্বাপদসংকুল এলাকায় বাস করতো হুমরা বেদে ও তার ছোটভাই মাইনকা। বেদের দল বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতো। ঘুরতে ঘুরতে তারা কানপুর গ্রামের এক বৃদ্ধ ব্রাম্মনের ঘর থেকে ছয়মাস বয়সী এক ফুটফুটে মেয়েকে চুরি করলো। মেয়ের নাম রাখা হলো মহুয়া...
দেখতে দেখতে মেয়ে বড় হয়ে উঠলো। মেয়ের রূপে,গুনে,খেলায় সবাই মুগ্ধ। তার রূপ যেন সাপের মাথার মনি, অন্ধকার ঘরে কাচা সোনা, চুল যেন নদীর ঢেউ, আসমানের তারার মতো দীঘল চোখ...
বেদের দল খেলা দেখাতে বের হলো। তাদের সাথে ছিল মহুয়া আর তার প্রাণপ্রিয় পালং সই। চলতে চলতে তারা এসে পৌছলো কেন্দুয়ার বামুনকান্দা গ্রামে। ঠাকুর বাড়িতে খেলা শুরু হলো। মহুয়ার রূপ আর খেলার কসরতে ঠাকুর বাড়ির ছেলে নদের চাঁদ তার প্রেমে পড়ে গেল!
"যখন নাহি বাইদ্যার ছেরি বাশে মাইলো লাড়া
বইসা আছিল নদ্যার ঠাকুর উঠ্যা ঐল খাড়া"
খেলায় খুশি হয়ে নদের চান তাদের অনেক পুরস্কার দিলেন আর থাকবার জন্যে যায়গা দিলেন। এক শুভদিনে নদের চাঁদ মহুয়াকে তার মনের কথা বললো। মহুয়াও তাকে মনে মনে খুব ভালবেসে ফেলেছে।তবু নারী হৃদয়ের আবেগকে কঠিনভাবে সংবরণ করে রূঢ় ভাষায় নদের চাঁদ কে বললো-
"লজ্জা নাই নির্লজ্জ ঠাকুর লজ্জা নাইরে তর।
গলায় কলসি বাইন্দা জলে ডুব্যা মর।"
কিন্তু প্রেম আর কতদিন লুকিয়ে রাখা যায়। তাদের গোপন ইচ্ছা জেনে ফেলে হুমরা বেদে। রাতের আধারে এলাকা ছেড়ে চলে যায় তারা। নদের চাঁদ পাগলের মতো মহুয়াকে খুজতে বেড়িয়ে পরে। কোথায় খুজে পাবে সে মহুয়াকে? কিন্তু খুজে পায় সে। কিন্তু তারপর যে আরো ভীষণ ভয়াবহ কিছু ঘটতে চলছে তা কি নদের চাঁদ জানতো???
দেওয়ানা-মদিনাঃ
ছোট্টবেলায় মাকে হারায় আলাল-দুলাল। তাদের দেখাশোনা করতেই বানিয়াচংয়ের দেওয়ান সোনাফর ভেবেছিলেন আর বিয়ে করবেন না। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে করতে বাধ্য হলেন। কিন্তু সন্তানদের রাখছিলেন নিজের কাছেই, চোখে চোখে। কিন্তু সৎ মায়ের কুটিল বুদ্ধির কারনে তাও আর সম্ভব হয় না। সৎ মা ছল করে তাদের নিজের কাছে নিয়ে নেয় এবং একদিন জল্লাদকে দিয়ে নদীতে ডুবিয়ে মারতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের করুণ আকুতিতে জল্লাদের কঠিন হৃদয়ও গলে যায়--
আলাল কান্দিয়া কয় জল্লাদের পায়ে ধরি।
"আমারে মারিয়া দেও দুলারেরে ছাড়ি।।"
দুলাল কয় "শুন জল্লাদ, রাখ মোর কথা।
ভাইয়েরে না রাখ্য, আমারে মার দিয়া বেথা।।"
দুই ভায়ে না জল্লাদের ধর্যা দুই পায়।
পাথর গলয় এমন কান্দিয়া ভাসায়।।
জল্লাদ তাদের ছেড়ে দেয়। ঘটনাক্রমে তারা দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আলাল তার পিতার দেওয়ানি পুনরোদ্ধার করে। এর জন্যে সে দেওয়ান সিকান্দারের সাহায্য নিয়েছিল এই শর্তে যে তারা দুইভাই তার দুই মেয়েকে বিয়ে করবে। কিন্তু ততোদিনে দুলাল বিবাহিত। সে কিভাবে বিয়ে করবে। সে ভাইয়ের কথা রক্ষার্তে তার সতীসাধ্বী স্ত্রী মদিনাকে তালাক দেয়.... কিন্তু এর জন্যে যে তাকে চরম মূল্য দিতে হবে সে কি তা ভেবেছিল???
♦ এই এতো বছর পরও মহুয়ার ব্যক্তিত্ব, ভালবাসা আমাকে চরমভাবে মুগ্ধ করে। নারীকুলের সেইসব অন্যন্য বৈশিষ্ট্য গুলো সবই তার ছিলো।
♦ সবগুলো সব শ্লোক কি সুন্দর! পড়তে একটুও বিরক্ত লাগে না। তবুও গল্পরূপে তো আরো মোহনীয় লেগেছে।
♦ভাবতেই অবাক লাগে, একসময় কি অদ্ভুত সুন্দর ছিলো আমাদের সংস্কৃতি। কি আশ্চর্যজনকভাবেই না সেইসব লোকেরা সুরে সুরে বাধতো অমর সব প্রেমগাথা!!!