33 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 350TK. 309 You Save TK. 41 (12%)
"বিষাদনদী" বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ
‘হরিষে বিষাদ' বলে একটা কথা আছে বাংলায়। যার মানে আনন্দপূর্ণ ঘটনার হঠাৎ বেদনাদায়ক পরিণতি। বিষাদনদী আখ্যানের বিষয় এমন হলেও
#রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
বইয়ের নামঃ বিষাদনদী
লেখকঃ মোহিত কামাল
প্রকাশকঃ অন্যপ্রকাশ
প্রকাশনাকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
দুঃখকষ্ট মানব জীবনের অনিবার্য অঙ্গ। তবু তারাই তো সফল হয় যারা এই দুঃখকে জয় করে নিতে পারে! মনের বিষণ্ণতাকে দূর করে যারা এগিয়ে যায় তারাই একসময় মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় সমাজে।
সেরকম এক গল্প নিয়েই বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামাল লিখেছেন অনবদ্য এক উপন্যাস। একজন রসায়ন বিজ্ঞানী যেমন বিভিন্ন যৌগের সাথে অনুঘটকের বিক্রিয়া ঘটিয়ে নতুন নতুন যৌগ তৈরি করেন, ঠিক তেমনি মনোবিজ্ঞানিরাও মনের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা নানা ঘাত-প্রতিঘাত নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। তেমনটিই করেছেন মোহিত কামাল।
উপন্যাসে মূল চরিত্র ঊর্মি। সহজ সরল মেয়েটির মনে লুকিয়ে আছে কষ্টের এক গহিন সাগর। কারণ সে মনে-প্রানে ভালবাসত জ্যোতি নামের একটি ছেলেকে, কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই বদলে যায় ছেলেটি। তার মনে জায়গা করে নেয় অন্য একটি মেয়ের রুপ-সৌন্দর্য। এই কষ্ট ঊর্মির হৃদপিণ্ডে তীর হয়ে বিদ্ধ করে বারবার, সে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চায়। মনের ভিতরের সব আগুন ঝেড়ে ফেলে সেখানে সুখের কবিতা রচনা করতে চায়। তার এই আগুনঝরা হৃদয়ের সঙ্গি হয় আঁখি নামের একটি মেয়ে।
একদিন ঊর্মি ঠিক করে তার সব কষ্ট সে একটি রুলটানা খাতায় লিখে রাখবে, ভেতরের সব মান অভিমান শব্দমালা হয়ে ঝরে পড়বে কলমের কালিতে, প্রকাশিত হবে তার কবিতায়। হ্যাঁ, একদিন তার স্বপ্ন পূরণ হয়, প্রকাশিত হয় তার মনের আবেগ থেকে বেরিয়ে আসা জলস্রোত। কিন্তু না, সেখানেও আসে বাঁধা বিপত্তি, নানা রকম কুৎসা রটনো হয় ঊর্মির নামে! একসময় ঊর্মি ঠিকই বের করে ফেলে তার আসল শত্রুকে। কিভাবে বের করে?
জানতে হলে পড়ে ফেলুন একাধারে কথাসাহিত্যিক ও মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামালের অনবদ্য উপন্যাস- বিষাদনদী
রকমারি লিঙ্কঃ https://www.rokomari.com/book/127553/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%80
হ্যাপি রিডিং
Was this review helpful to you?
By murad, Jun 12, 2017
কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত । সম্পাদনা করছেন সাহিত্য পত্রিকা ‘শব্দঘর’। সাহিত্যের শব্দ গাঁথুনিতে তিনি ব্যবহার করেছেন মনস্তাত্ত্বিক উপদান। মনোবিজ্ঞানের কলকব্জায় চড়ে উপন্যাসের জীবনধারা বিস্তৃত হয়েছে, মনে সাহিত্য রচিত হয়েছে। ভালোবাসায় পূর্ণ জীবন ফাটল তৈরি হয়। বদলে যায় মনের গতি-প্রকৃতি। বিপর্যয় নেমে আসে, সুখি পরিবারের ভিত ভেঙ্গে যেতে থাক। ভুল বোঝাবুঝি, সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং ক্রোধের আগুনে পুড়তে থাক মন। পুড়তে থাক দেহ। ঝলছে যায় সামাজিক সমৃদ্ধি।হরিষে বিষাদ’ বলে একটা কথা আছে বাংলায়। যার মানে আনন্দপূর্ণ ঘটনার হঠাৎ বেদনাদায়ক পরিণতি। ‘বিষাদনদী’ আখ্যানের বিষয় এমন হলেও, এই কাহিনির রহস্য অন্যখানে।
বিষাদ মানবজীবনের অনিবার্য অনুষঙ্গ। আমরা জীবনের নানা পর্বে বিভিন্নভাবে বিষাদগ্রস্ত হই; একে মোকাবিলা করে এগিয়ে যাই। সমস্যা হয় তখনই যখন এর পরিণতিতে আমরা স্থায়ী বিষণ্নতা কিংবা অবসাদে আক্রান্ত হই। এবং এর ফলে জীবনের প্রবাহ বা কর্মচঞ্চলতা বাধাগ্রস্ত হয়। কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল মানবমনের জটিল অলিগলি নিয়ে যে বিপুল সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, এই উপন্যাস তার একটি নতুন সংযোজন।
বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঊর্মি জীবনের প্রথম প্রেমেই প্রতারিত হয়। পরিণতিতে গভীর বিষাদে আক্রান্ত হয়। কিন্তু যে অসাধারণ সৃজন-উচ্ছ্বাস নিয়ে সে একে সৃষ্টিশীলতায় রূপান্তর করে এবং ভুল পথ ও ফাঁদ-পাতা ভুবনের কানাগলিতে আটকে না গিয়ে ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত করে- তারই অনবদ্য প্রকাশ এই উপন্যাস।
মোহিত কামাল গল্পচ্ছলে পাঠকের সামনে হাজির করেছেন মনস্তত্ত্বের অনেক জটিল-নতুন তত্ত্ব, জীবন জয়ের মন্ত্র আর বিরূপ বিশ্বে একজন নারী কীভাবে সব বাধা-অপবাদ পেরিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে তার চমৎকার বিবরণ। সঙ্গে আছে তাঁর কাব্যিক ভাষা। ফলে এ বই হয়ে ওঠে জীবনের বিষাদের নদী পেরিয়ে আনন্দ-গন্তব্যে পৌঁছানোর এক সাহিত্যিক হাতিয়ার।