মানব সভ্যতা ও বিজ্ঞানের এই চরম উৎকর্ষতার যুগেও ‘প্রেম’ নিয়ে রহস্যময়তার শেষ নেই। ‘প্রেম কী’-এর অনুসন্ধান এখনো চলছে। মধুর স্বাদ যে ব্যক্তি কখনো লাভ করেনি, তাকে যেমন চিনি ও গুড়ের মিশেলে মধুর স্বাদ বোঝানো যাবে না, তেমনিভাবে ‘প্রেম কী’ জানতে হলে খোদ প্রশ্নকর্তাকেই প্রেমে পড়তে হবে। তবে প্রেমের কোনো সংজ্ঞা না থাকলেও প্রেম নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে।
আলোচ্য রচনাটি মূলত রাজ্জাক হাওলাদার রচিত গ্রন্থ ‘প্রেম-পত্রের ইতিকথা’র পাঠ প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে। ‘পরিবর্তে’ এই কারণে যে, লেখাটি সম্পূর্ণরূপে গ্রন্থটিকে উপস্থাপন করছে না। তবে পাঠকের সারি থেকে ছোটখাট অসংলগ্নতাগুলোর বিপরীত আওয়াজ তো দেয়াই যায় না কি?
গ্রন্থের নাম- ‘প্রেম-পত্রের ইতিকথা’। শুরুতেই আপনার হয়ত মনে হয়েছে এটি একটি ইতিহাস-ঐতিহ্য নির্ভর বই। যেটি সাজানো হয়েছে, প্রেম পত্রের ইতিহাসমূলক গবেষণাধর্মী লেখা দিয়ে। কিন্তু বইটির একজন পাঠকই কেবল জানতে পারবেন, এটি একটি প্রেমপত্রের সংকলন। তবে একজন লেখকের প্রেমের কাছে, তার ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার কাছে আমি এটুকু অভিযোগ এড়িয়েই যেতে পারি নির্দ্বিধায়।
লেখকের দীর্ঘদিনের রচনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ঠিক সে সময়ের ভাবনায় জেগে উঠল এক অন্যরকম বিষয়, যা লেখককে একদিন লেখার সাহস জুগিয়েছিল। তিনি ভাবলেন, শৈশব-কৈশোরের সেই দিনগুলোতে তার ভালোবাসার কথা, এবং সে সময়ে লেখা কিছু প্রেমপত্রের কথা। সেই চিন্তা থেকেই এই গ্রন্থের অবতারণা। কথাগুলো জানতে পেরেছি বইয়ের শুরুতেই লেখকের ছোট্ট ভূমিকায়।
‘প্রেম-পত্রের ইতিকথা’ গ্রন্থে প্রেমের কথাই আছে। তবে আরো মজার ব্যপার হল, প্রেমগুলো নানা পাতায় নানান রকম সেজেছে। বাল্যকালের প্রেমের চিঠি দিয়ে যেই বই শুরু করবেন, একটু পরে সেখানে পাবেন মায়ের প্রেম, বাবার শাসন, শৈশবে বন্ধুদের প্রেম, শৈশবে জামাই-বউ খেলার গল্প, আর এক বালিকার প্রেমের বিবরণ। যার গল্প বলেছেন লেখক ভূমিকায়।
লেখক রাজ্জাক হাওলাদার। ১৯৫২ সালের ১০ মে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পূর্বমাইজপাড়া গ্রামে জন্ম। ১৯৭১ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন তিনি। পরীক্ষা স্থগিত রেখে মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। স্বাধীনতার পরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন কালীন চলে যান জার্মানিতে। রাজ্জাক হাওলাদার একজন শৌখিন গায়ক। তবে বই পড়া ই তার নেশা।
শিকদার আবুল বাশারের দারুণ প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশ করেছে গতিধারা প্রকাশনী।