বইটিতে কেবল লেখকের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং সেই সময়ের জেলেপল্লীর সমাজব্যবস্থা, দারিদ্র্য, বঞ্চনা এবং শিক্ষার প্রতি এক অদম্য তৃষ্ণার চিত্র ফুটে উঠেছে।
Was this review helpful to you?
By Shamim Reza, Nov 9, 2018
লেখক তার পাঠকদের আকর্ষণ ধরে রেখেছেন শেষ অব্দি। তবে এই বইয়ে বেশকিছু অন্য লেখকের রচিত উপন্যাস/রচনা নিয়ে আলোচনা আছে যা বইটি কেনার সময় বোঝা যায়নি। বইটি পড়ার পর ঐসব বইয়ের রহস্য শেষ হয়ে গেল। এটা খুব খারাপ লেগেছে। লেখকের উচিত ছিল শুরুতেই একটা সতর্কতামূলক কিছু লেখা। সর্বোপরি বইটি খারাপ লাগেনি।
Was this review helpful to you?
By murad, Jun 14, 2017
হরশংকর জলদাস এর জন্ম ১৯৫৫ সালে চট্রগ্রামের পতেঙ্গায় । তিনি অধ্যাপনার কাজে ছিলে, পরে বিভিন্ন সমস্যার কারনে সেই কাজ ছেড়ে হাতে কলম তুলে নেন এবং একে একে লিখে ফেলেন কয়েকটি অসাধারন বই । তিনি সবসময় দলিত মানুষদের নিয়ে লেখালেখি করেন । তিনি নিজেও প্রান্তিক সমাজের মানুষ, অসাধারন নিজস্ব ভাষা দিয়ে তিনি তার কথাসাহিত্যের জগত তৈরী করেছেন । সাহিত্যকর্মের জন্য পেয়েছেন আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য ইত্যাদি ।এই উপন্যাসে নারীদেহের সান্নিধ্যে আসা যুবকের মনোবিকলনের চালচিত্র আছে, ধর্ষণমনস্কতা আছে। আছে আবার বিবেকের দংশন। সবকিছুকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে শাসনক্ষমতা চলে যাওয়ার হাহাকার আছে। লাল সূর্যের অপমানের কথা যেমন আছে, তেমনি সেই সূর্যের রাহুমুক্ত হওয়ার বাসনাও ব্যক্ত হয়েছে জোরালোভাবে।
লেখক নিজেও একটা চরিত্র হয়ে উঠেছেন ময়লা জামায় ফেরেশতারা উপন্যাসে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর এদেশ চলে গেছে অপশাসকদের হাতে। তখন দেশ খরচৈত্রে পুড়ে-পুড়ে ছারখার। ফসলি মাঠ আজ ধুধু। তখন লেখক চান বাঙালির পুনর্জাগরণ, শুনতে চান - ঘরে-ঘরে দুর্গ গড়ে তোল - ঘুম-ভাঙানিয়া এই শ্লোকটি। এখন দেশ রাজাকার গোষ্ঠীর হাতে হলে কী হবে, এমন একদিন আসবে যেদিন দেশ-লুটেরারা জাহান্নামে যাবে। এ-কথা এই উপন্যাসে শুধু ঔপন্যাসিকের হয়ে থাকেনি, আপামর স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণেচ্ছু মানুষের অন্তর-ইচ্ছা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৈয়দ শামসুল হক তাঁর ময়লা জামায় ফেরেশতারা উপন্যাসটির সূচনা করেছেন নদীপাড়ে, উপন্যাসটি শেষও করেছেন সেই আধকোশার পাড়ে। আধকোশার পাড়ে এক বৃদ্ধ আসে ওপারে যাবে বলে। ওপারটা যেন স্বাধীনতার লাল সূর্যের দেশ, এপারটা অরাজকতায় ভরা। বৃদ্ধটি যেন এদেশের সাধারণ মানুষের প্রতীক, যে-মাৎস্যন্যায়কে অতিক্রম করে স্বদেশের পবিত্র মাটিতে যেতে আগ্রহী।
এ যেন এক নদীর কাহিনি, এ যেন এক জলের বৃত্তান্ত। জলে শুরু উপন্যাসটি, জলের কিনারা ঘেঁষে উপন্যাসটির সমাপ্তি।