3 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 200TK. 179 You Save TK. 21 (11%)
সুন্দর সুবাস! পাশের বাগান থেকে ভেসে আসছে। পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। কত রকম পাখি যে ডাকছে। এক একটা পাখির ডাক এক এক রকম। কিন্তু সবাই যেন একই সুরে ডাকছে। কোন এক অজানা ইশারায় সবাই একই তাল
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আনন্দছাত্রী শেলী সেনগুপ্তা। সাহিত্য বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ এ। তিনি সত্যকে দেখেন আপন দৃষ্টিতে। সত্যর কাছাকাছি থাকতে চান সবসময়। শিশু সাহিত্য তার প্রিয় আবাস। শিশুমনের অধিকারী এই লেখিকা নিজেকে শিশুদের মাঝেই খুঁজে পেতেই ভালোবাসেন।
বাবা-এমন একটি শব্দ যা শুধু শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়না। এই শব্দের মহত্ব নিয়ে আমি কিছু নাই বা লিখলাম।
‘প্রতিদিন অদ্রির ঘুম ভাঙে পাখির গান শুনে শুনে। আজকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অদ্রি জেগে উঠেছে পাখির গানে। চোখ খুলে পাশ ফিরতেই দেখে বাবা হাসছে। সাথে সাথে অদ্রিও হেসে দিল। এক মুহুর্র জন্য, আবার চমকে উঠল। ওর সামনে এক ঝাঁক পাখির মুখ। দুলে দুলে উঠছে। অদ্রি ভয় পেয়ে বিছানা থেকে উঠে দরজার দিকে দৌড় দিল। ঠিক সে সময় মামণি ট্রেতে কেক সাজিয়ে নিয়ে আসছিল। অদ্রি গিয়ে মামণির গায়ের উপর পড়ল। কেকসহ মামণি পড়ে গেল।…বাবা অদ্রিকে তুললো। তখনও সে চিৎকার করেই যাচ্ছে। ততক্ষণে পাখিরা সব উধাও। ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে লামিহা, সাহাব, সাবিত, রাফসান, নুমায়ের, মেহুলী আর ইদিতা। ওদের হাতে পাখির মুখোশ। ওরা আবার গান গেয়ে উঠল,‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থ ডে টু অদ্রি।’
শিশুদের জন্য এরচেয়ে মনোরম দৃশ্য আর কি হতে পারে? বাবা যখন গল্প বলে-বইটি অদ্রিকে নিয়ে লেখা। একজন অদ্রির জীবনের গল্প স্বাভাবিকভাবেই অন্য শিশুদেরও আনন্দ-বেদনার কথা বলে। লেখিকা শিশুদের ভালোবাসেন তাদের মন-মানসিকতা বুঝে খুব সুন্দর করে উপন্যাসের রুপ দিয়েছেন এবং মজার বিষয় হলো গল্পে গল্পে তিনি বাচ্চাদের শিক্ষনীয় বিষয়গুলোকে সবিস্তারে বর্ননা করেছেন। কিভাবে ভয় দূর করতে হয়? ভালো বন্ধু অর্জনের উপায় কি কি? ভালো বন্ধু কেন প্রয়োজন এইসব বিষয়গুলো উপন্যাসে ঢুকিয়ে দিয়েছেন সুন্দরভাবে। আমার কাছে তার এই উপস্থাপনা চমৎকার লেগেছে।
বইটির ফ্ল্যাপে লিখা কথাগুলো বেশ ভালো লেগেছে । শিশুদের জন্য অবশ্যই চমৎকার একটি বই। সচেতনতা তৈরীতে বা শিশুদের মন বুঝতে বড়রাও পড়তে পারেন বইটি।
Was this review helpful to you?
By Pathik Munier, May 16, 2017
শেলী সেনগুপ্তার শিশুতোষ উপন্যাস ‘বাবা যখন গল্প বলে’। জীবনের প্রধান শিক্ষাগুরু বাবাকে নিয়ে গল্প। শৈশব থেকে বার্ধক্য, ভরসা ও ছায়ার নাম বাবা। বাবা পরম নির্ভরতার নাম। যুগ, সময়, স্থান কিংবা রঙ, বদলায় না কখনো পিতা-সন্তানের বন্ধনের রূপ। আর শিক্ষাগুরু? শেলী সেনগুপ্তার উপন্যাস ‘বাবা যখন গল্প বলে’ পড়ে আমি চলে গেছি সেই অনেক পথ পেছনে। যেখানে বাবার আঙুল ধরে স্কুলে যাওয়া যায়। বাসায় ফেরা যায়। মনে পড়ে সেইসব আবদারি সময়ের কথা।
বাংলা শিশুসাহিত্যে শেলী সেনগুপ্তা পরিচিত মুখ। লেখালেখিতে তার প্রিয় প্রাঙ্গণ শিশুসাহিত্য। একের পর এক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি সেটিই প্রমাণ করতে চেয়েছেন। পেরেছেনও। লিখে যাচ্ছেন অবিরাম। পেশায় একজন শিক্ষক। লিখেন নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা। একটি শিশুমন ধারণ করে রেখেছেন যেন সবসময়। যাপিত শৈশবের ব্যর্থতাগুলো মুছে দিতে চান আগামীর সব শৈশবের জীবন থেকে। আর সফলতার গল্পগুলো তো জীবন বাস্তবতা।
প্রতিটি শিশুই তার জন্মদাতার ছায়া। ‘বাবা যখন গল্প বলে’ গ্রন্থে সন্তানের জন্য বাবার ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং বাবার জন্য সন্তানের ব্যাকুলতা সহজ ভাষায় বিবৃত হয়েছে গল্পে গল্পে। ‘বাবা যখন গল্প বলে’ একটি শিক্ষামূলক উপন্যাস। শিশুরা যা পড়ে তা-ই শিখে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভুমিকা পালন করছেন যেন শেলী সেনগুপ্তা।
উপন্যাসের নায়ক অদ্রি। এককথায় বলতে গেলে ‘বাবা যখন গল্প বলে’ ছোট অদ্রির জীবনপঞ্জি। অদ্রি হাসছে, খেলছে, স্কুলে যাচ্ছে, বন্ধুদের সাথে গল্প করছে। বিশেষভাবে ভালো লেগেছে উপন্যাসটির প্রায় লাইনেই রয়েছে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক কথা। শিশুদের মেধাবিকাশে কথাগুলো অনেক উপকারে আসবে। প্রচ্ছদ মোটেই ভালো লাগেনি তবে ভেতরকার অলংকরণগুলো বেশ আকর্ষণীয়।