‘কুন’ গায়েবি শব্দটি উচ্চারিত হবার সাথে সাথে
আমি উঠে এসেছি পৃথিবীর বুক ফুঁড়ে একদিন!
কোন মহাজাগতিক রশ্মির পথ ধরে এখানে এসেছি জানি না,
দরকারও নেই।
জসিম উদ্দিন টুটুলের ‘রাখালিয়া বাজাও বিষাদ’ পড়ছিলাম আর মনে হচ্ছিল কবিতার এক অন্যরকম ছন্দে পড়ে ফেলছিলাম কবির ব্যক্তিগত চিন্তার জীবনবৃত্তান্ত। কবি যখন লিখেন- ‘আমি তো পারি নি তেমন কিছুই তবু/ রক্ত ঘাম আর দু’চোখের নোনা জলে পৃথিবীর কঠিন মাটিকে/ ছেনেছি দুই হাতে, একখানি ঘরের উপযোগী/ যতটা নরম করা যায় তার সবটা করেছি- কিন্তু পারি নি’। তখন মনে হয় আহা, দুনিয়ার কাছে তার কতনা কৈফিয়ত! ‘আমার উত্তরাধিকার’ কবিতার এই কৈফিয়ত আমাদের, মানুষের।
মোট ৪৮টি কবিতা নিয়ে জসিম উদ্দিন টুটুলের ‘রাখালিয়া বাজাও বিষাদ’ কাব্যগ্রন্থটি। একথা সত্য যে, গ্রন্থভুক্ত এই ৪৮টি কবিতার সবগুলো কবিতায় পাঠক হিসেবে আমি সন্তুষ্ট হতে পেরেছি। তবু যতগুলো কবিতা ভালো লেগেছে, তাতে একজন কবিকে চিনতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি আমার। তিনি লিখেছেন- ‘শুধু বাউলের ভালোবাসা আর নিঃস্বার্থ দরদ রেখে যাব নশ্বর পৃথিবীতে,/ কেউ মনে রাখবে না জানি, তবু থাক, থাক না কিছুটা,/ কিছুটাতো লেখা থাক বটবৃক্ষ ছায়ায়, পথে-প্রান্তরে নিভৃতে মলিন’। আমার মনে হয়, খুব বেশি দরকার পড়ে না এমন কিছু লাইন যদি থেকে থাকে একটি কাব্যগ্রন্থে।
জসিম উদ্দিন টুটুল। ২৯৬৮ সালের ১৬ জুলাই বিক্রমপুরের বাড়ইখালীতে জন্ম। গ্রন্থসূত্রে জানা গেল ‘রাখালিয়া বাজাও বিষাদ’ কবির তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। এর আগে প্রকাশিত হয়েছে তার ‘স্বপ্ন জাগে রাত্রিদিন’ ও ‘নিঃসঙ্গ নির্জনে’ নামে আরো দুটি কাব্যগ্রন্থ। ‘ঝন্টু দ্য গ্রেট’ নামে কিশোর উপন্যাস লিখেছেন একটি। বিষয়োপযুক্ত একটি দারুণ প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। সাহস পাবলিকেশন্সকে ধন্যবাদ একজন কবিতার টুটুলকে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য।
মানুষ, জীবন, মাটি আর সময় কবির কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ। ‘মানুষ মরে যায়/ অনিচ্ছায় অসময়ে মরে যায় সে, পড়ে থাকে/ মাটির কফিনে, কেননা, সে তো খুন হয়ে গেছে/ তার অজান্তেই কোন একদিন’...। হ্যাঁ, একটি সময়কে উপস্থাপন করতে এই পংক্তিগুলোই যথেষ্ট। তবু তারপরও কবির মতো আমিও বিশ্বাস করতে চাই- ‘একদিন স্বপ্নের পৃথিবী হবে, সত্যি হবে!’