‘ছোটবেলা থেকেই আমার একটা বৈশিষ্ট্য ছিল- আমি অবিমৃশ্যকারী আবেগে চলি, আমি ঠিক বুঝে চলতে পারি না। তবে আমার একটা ন্যায়-অন্যায় চেতনাবোধ ছোটোবেলা থেকেই ছিল, এখন অনুভব করছি- তখন এসব বুদ্ধি হয়নি। কোনোটা পছন্দ না হলে- অন্যায় বলে মনে করলে আমার পারিবারিক জীবনেও আমি তর্ক করতাম, অতি ছোটকাল থেকেই’।
ড আহমদ শরীফ কথা বলছিলেন আবুল আহসান চৌধুরীর সাথে। হ্যাঁ, ঠিক এমন আলাপচারিতায়ই শেষ হয়েছে অত্র ‘আলাপচারী আহমদ শরীফ’ গ্রন্থটি। বইটি পড়ছিলাম আর মনে হচ্ছিল, যে আহমদ শরীফকে নিয়ে এতো এতো বিতর্ক, যাকে বিভিন্ন সময়ে উপেক্ষা করতে চেয়েছে আমাদের সমাজ, আমি সেই আহমদ শরীফের বাল্যকাল থেকে শুরু করে তাঁর পায়ে পা মিলিয়ে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি সময়ে আলপথ ধরে, একটি সম্ভাবনাময় আগামীর দিকে।
একটি সাক্ষাৎকার ‘আলাপচারী আহমদ শরীফ’। যার পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় ছড়ানো দর্শন, আধুনিক চিন্তা-চেতনা, আর বড় হয়ে ওঠা একজন আহমদ শরীফ। বিশিষ্ট লোকসাহিত্য বিশারদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে কথা বলে গেছেন। আহমদ শরীফের একজন পাঠক হিসেবে প্রত্যেকের মনেই জন্ম নিবে এমন সব প্রশ্ন উপস্থাপন করে গেছেন তিনি আর অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে আহমদ শরীফ দিয়ে গেছেন জবাব।
শুধু লেখক আহমদ শরীফ কিংবা শুধুমাত্র ব্যক্তি আহমদ শরীফ নয়, অত্র গ্রন্থে উপস্থিত আছে ব্যক্তি আহমদ শরীফের জীবনের নানা দিক সহ সাহিত্যের আহমদ শরীফ কেমন ছিলেন তার বয়ান। তাই অত্র গ্রন্থে পাঠক পাবেন একজন পণ্ডিত, সমাজচিন্তক, মানবপ্রেমিক, দ্রোহী, স্পষ্টভাষী এবং একজন ভাষাবিদ আহমদ শরীফকে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম আর নৈতিকতা বিষয়ে আহমদ শরীফ বিতর্কের জন্ম দিলেও শেষাবধি তিনিই ছিলেন দেশপ্রেমি পাঠকের অন্যতম আশ্রয়। স্বপ্নীল আগামীর অনুপ্রেরণায় আহমদ শরীফ একজন স্বপ্নবাজ পথনির্দেশক। তাই ব্যক্তি, সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী, ভাষাবিদ আর মানবপ্রেমী আহমদ শরীফকে এবং তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরেকটু বুঝতে অত্র ‘আলাপচারী আহমদ শরীফ’ গ্রন্থটি এক অন্যতম অবলম্বন হতে পারে।
‘আলাপচারী আহমদ শরীফ’ গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। বইমেলা ২০১৭ তে বইটির সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে আগামী প্রকাশনী থেকে। প্রচ্ছদ করেছেন শিবু কুমার শীল। ধন্যবাদ আবুল আহসান চৌধুরীকে এমন একজন সম্পূর্ণ মানুষকে উপস্থাপনের জন্য।