বাংলাদেশে বাংলা কথা সাহিত্যে একটা নতুন মোড় নিয়েছে। স্বাধীনতা লাভের চার দশকেরও পরে সুদূর ইউরোপে বসেও এই সত্যটা উপলব্ধি করছি। আরো একটি সত্য উপলব্ধি করছি, ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের পর হিন্দু
‘বিজয়িনী’। উপন্যাস হোক কিংবা সাহিত্যের অন্য কোন বিভাজনে একে ভাগ করা হোক, আমার কাছে এটি একটি সামাজিক উপাখ্যান। ধর্ম-নিরপেক্ষতার আদর্শের ভিত্তিতে একদিন স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার এতোটা বছর পরও ধর্ম পুড়ছে ধর্মান্ধতার আগুনে। অথচ সাম্প্রদায়িকতা ভুলে একটি সোনার দেশ গড়ার স্বপ্নই তো ছিল তাঁদের, যারা দেশের জন্য ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন আমাদের জন্য।
চিত্তরঞ্জন সাহার উপন্যাস ‘বিজয়িনী’ পড়ে মনে হবে, সত্যিই আমরা খুব বেশি এগোতে পারিনি। লেখক চিত্তরঞ্জন সাহা ‘বিজয়িনী’ উপন্যাসে এমন একটি ছবি আঁকতে চেয়েছেন, যে ছবি বেদনার, ক্ষোভের আর হাহাকারের। সমাজ বাস্তবতার এই নির্মম আয়নায় পাঠক দেখতে পারবেন তার নিজের মুখ।
‘বিজয়িনী’ উপন্যাসের নায়ক ‘অগ্রদূত’ আর নায়িকা ‘মালবিকা’। দুজনেই মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদের সন্তান। তাদের দুজনের স্বপ্ন, তারা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে। কিন্তু না, তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন মোটেই সহজ হয়ে উঠল না। নানাবিধ বাঁধার জাল ছিড়ে সামনে এগোনোটা মোটেই সহজ হয়ে উঠল না। সাম্প্রদায়িকতার জটিল সব সমীকরণের মাঝেও তারা এগিয়ে যেতে চায় তাদের স্বপ্নপথে।
‘বিজয়িনী’ উপন্যাসের শুরুটা পড়লে সামনে এগোতে মন চায়। পাঠক হিসেবে আপনার সম্মুখেও ভেসে উঠবে দারুণ সব চিত্রকল্প। যার পথে পথে আপনি ফেলে এসেছেন কোন অতীত অধ্যায়। আপনিও শুনতে পাবেন প্রতিবেশির হাঁসদের কুঠুরি থেকে ছাড়া পাওয়া হাঁসদের প্যাক প্যাক শব্দে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ার শব্দ, মোরগের উচ্চ কণ্ঠে সবাইকে ঘুম ভাঙানো কিংবা বাড়ির পোশা কুকুরটার ঘেউ ঘেউ ডাক। শিবু কুমার শীল এর দারুণ প্রচ্ছদে উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী।
লেখক চিত্তরঞ্জন দাশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগ থেকে এল এল বি এবং এল এল এম ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আই বি এস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে যুক্ত ছিলেন ইউএনডিপিসহ বাংলাদেশের বহু উন্নয়ন সংস্থার সাথে। ‘বিজয়িনী’ ছাড়াও এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তার আরো চারটি গ্রন্থ। জাতিসংঘের উচ্চ পদে নিযুক্ত থাকাকালে তিনি পৃথিবীর বহুদেশ ঘুরেছেন। তাই তার অধিকাংশ বইই ভ্রমণকাহিনী। সেসব নিয়েই প্রকাশিত হয়েছে ‘দেশ দেশান্তর’ নামে তিন খণ্ডের ভ্রমণ কাহিনী। আছে ‘Human Rights: Conditions for Peace, Stability and Development- A Case Study of Bangladesh’ নামে আরো একটি বই।