3 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 350TK. 309 You Save TK. 41 (12%)
সোমবার সকাল, ঠিক সকালও নয়-প্রত্যুষের কাছাকাছি, ঊষা ও ভোরের মিলনক্ষণ।
ফকির ইনসানুদ্দির অর্জিত তারকাবিদ্যা অনুযায়ী গতকাল ছিল পূর্ণিমা এবং সে বিদ্যার সাথে সংগতি রেখে পূর্ণিমার সুবিশাল
‘...আর দেরি নয় হবিবর! সূর্য ওঠার আগেই তোমাকে মঙ্গলগাতী পৌঁছতে হবে। সেখানকার ভীতিগ্রস্থ মানুষ আর ফুঁসে থাকা যুবকেরা বসে আছে তোমার আগমনের প্রতীক্ষায়। মঙ্গলগাতীর জীবনে যে জঙ্গনামার সূচনা হয়েছিল তোমার অদেখা পূর্বপুরুষ বুনোকুলি চান মাঝি আর বাবা মঙ্গলশাহের হাতে, তার যবনিকাপাত তোমাকেই করতে হবে। হে দীর্ঘদেহী সাতোর অনতিদীর্ঘ সুপুরুষ পুত্র! আর দেরি নয়, ঝাঁপিয়ে পড়! ঝাঁপিয়ে পড়!...’
খালিদ মারুফ মূলত একজন গল্পকার। এর আগে প্রকাশিত লেখকের সবগুলো বইই গল্পের। কিন্তু ‘বুনোকুলির রক্তবীজ’ সম্ভবত তাকে উপন্যাসের একজন দক্ষ কারিগর হিসেবে পরিচয় করিয়েই দিল। ‘বুনোকুলির রক্তবীজ’ খালিদ মারুফের প্রথম উপন্যাস। এর আগে প্রকাশিত হয়েছে ‘ইসরাফিলের প্রস্থান’ ‘শীতার্ত পৌষ অভিমুখে’ ও ‘রেইল ক্রসিং’ নামে আরো তিনটি গল্পগ্রন্থ।
‘বুনোকুলির রক্তবীজ’। বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডের ইতিহাস আশ্রিত রক্তাক্ত একটি অধ্যায়ের শিরোনামও বলা যেতে পারে একে। তবে যুদ্ধ নির্ভর উপন্যাসের প্রচলিত পটভূমি বিষয়ক যে সমস্ত বয়ান সাধারণত আমাদের চোখে পড়ে, এটি তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আবয়বে গঠিত। এ উপন্যাস পড়ে অনেক কিছুই বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করবে নতুন ভাবে, ভিন্ন আঙ্গিকে।
যুদ্ধ আর জীবন তো পরস্পর বুক জড়াজড়ি করে বাঁচে। জীবন আর যুদ্ধের নিখাদ মিশেলে আমরা বাঁচি। খালিদ মারুফের ‘বুনোকুলির রক্তবীজ’ এ সরাসরি কোন যুদ্ধের বয়ান নেই কিন্তু এ উপন্যাসের পটভূমিতে বাঁচা বাসিন্দারা আপনাকে দেখাবে এমন এক অন্তর্নিহিত যুদ্ধ, যার দগদগে ঘা হয়তো ছুঁয়ে যেতে পারে আপনার শরীর। ‘বুনোকুলির রক্তবীজ’ উপন্যাসটি মানুষের কথা বলে। অন্তর্নিহিত রক্তক্ষরণের কথা বলে। একটি জনপদের মানুষদের বাঁচারলিপ্সায় জীবনসংগ্রামের কথা বলে। এ উপন্যাস একটি সংগ্রামী মুক্তির আলো অন্বেষার কথা বলে।
এখানে জীবনের বিবরণ আছে। তাই জীবনপাঠের এই অধ্যায়ে নেমে গেলে খানিকটা রক্তাক্ত হতে হবে এ তো স্বাভাবিক। পড়তে পড়তে আমরাও তাই চলে যাই এমন এক প্রান্তে- ‘যেখানকার বাসিন্দারা এখনো জানতে পারে নাই সুলতানের খুন হয়ে যাবার খবর।‘ আমরা দেখতে থাকি- ‘ফকির তার অসমাপ্ত ডুবগুলো আর শেষ করে না; উঠে আসে, এবং ভেজা শরীর, ভেজা চুল-দাড়ি ও বসনে সে আর বাড়ি ফিরে যায় না। দরগায় এসে বসে। বাবার পুতে যাওয়া ইটের দিকে তাকায়। মানুষের সেজদা আর হাতের ছোয়ায় ইটখানা দিন দিন খয়ে যাচ্ছে...’
‘বুনোকুলির রক্তবীজ’ গ্রন্থটির প্রচ্ছদই যেন একটি উপন্যাসের চিত্রপট। অসাধরণ প্রচ্ছদের জন্য শিল্পী সব্যসাচী মিস্ত্রীকে ধন্যবাদ। অভিনন্দন খালিদ মারুফকে।