আতিয়ার রহমানের ‘স্বপ্নের দ্বীপ সেন্টমার্টিন’ বইটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং বাংলাদেশের সীমানার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে লেখা। সেন্টমার্টিন ভ্রমণের একটি আকর্ষনীয় পর্যটন এলাকা। বইটিতে আছে- ঢাকা টু বে-অব-বেঙ্গল, অপরূপ সৌন্দযের অন্তরিফ শহর টেকনাফ, ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ, দুর্বিসহ সাগর পাড়ি, রহস্যময় সেন্টমার্টিন, দ্বীপের সামাজিক অবকাঠামো ও জীবন জীবিকা, বর্ণাঢ্য ইতিহাস, পাথরের বুড়ি, ছেঁড়া দীপের একটি পরিবার, ভয়ংকর একটি রাত। সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে এবং টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। আরবের কিছু নাবিক ২৫০ বৎসর পূর্বে এটি আবিষ্কার করে। তারা এটিকে “জাজিরা” নামকরণ করেন। বৃটিশ শাসনের সময়কালে এটিকে পুনরায় “সেন্টমার্টিন” দ্বীপ নামে নামকরণ করা হয়। দ্বীপটির স্থানীয় নাম নারিকেল জিনজিরা। সেন্টমার্টিনে ছেঁড়াদ্বীপ নামে একটি সংযোজিত অংশ রয়েছে। এ দ্বীপের বাসিন্দারা প্রাথমিকভাবে মাছ ধরাকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছে। এখানকার লোকদের প্রধানতম শস্য হল ধান এবং নারিকেল। এখানে প্রচুর পরিমাণে শেওলা পাওয়া যায়। এগুলিকে শুকিয়ে সংগ্রহ করে মায়ানমারে পাঠানো হয়। দ্বীপটি সূর্য, সমুদ্র এবং পাম গাছ দ্বারা আচ্ছাদিত। সকাল বেলায় সূর্য উদয় এবং সন্ধায় সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য দ্বীপের লোকালয়ে প্রাণ ফিরিয়ে আনে। এখানকার সামুদ্রিক প্রবাল ও কচ্ছপের সংরক্ষণে ব্যপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। দ্বীপটিতে অবৈধভাবে প্রবাল প্রাচীর দর্শকদের কাছে বিক্রি, মোটর চালিত নৌকা এবং মাছধরা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পায়ে হেঁটে এ দ্বীপটিকে একদিনে অতিক্রম করা সম্ভব। কেননা এর আয়তন মাত্র ৮ বর্গ কিলোমিটার (উচ্চ জোয়ারের সময় ২ বর্গ মাইল)। দ্বীপটি তার প্রবাল প্রাচীরের জন্য টিকে আছে। এটি ক্ষয় হতে থাকলে দ্বীপটি পানিতে ডুবে যাবার সম্ভাবনা আছে।