নাসির আহমেদ কাবুলের “ছোটদের নির্বাচিত ছোটগল্প -২য় খণ্ড” বইটিতে দেশ বিদেশের ছোটদের গল্প রচয়িতা স্বনামধন্য অনেক লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে। বইটিতে যে গল্পগুলো রয়েছে- তাঁবুর জগৎ- রাহাত খান, রাজপুত্র- রশীদ হায়দার, বাবার সাথে যাওয়া- সৈয়দ শামসুল হক, তোতা কাহিনী- সৈয়দ মুজতবা আলী, কাণ্ডারী- বশির আল হেলাল, রাত বারোটা- ইমদাদুল হক মিলন, পাম ট্রি মানে তালগাছ- নাসির আহমেদ কাবুল, ক্ষুদে গোয়েন্দার অভিযান- শহীদ সাহের, একটি করুণ গল্প- জরাসন্ধ, অরণ্যের এক রাত্রি- আশীস স্যান্যাল, যতীনের জুতো- সুকুমার রায়, কী করে বুঝবো- আশাপূর্ণা দেবী, ছেলেধরা- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, গুপ্তধন- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, রাত্তির বেলায়- সমরেশ মজুমদার। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ছোটদের জন্য লেখা জনপ্রিয় গল্প “গুপ্তধন” থেকে- “সেবার দেশময় রটে গেল যে, তিনটি শিশু বলি না দিলে রূপনারায়ণের উপর রেলের পুল কিছুতেই বাঁধা যাচ্ছে না। দু’টি ছেলেকে জ্যান্ত থামের নীচে পোঁতা হয়ে গেছে, বাকী শুধু একটি। একটি সংগ্রহ হলেই পুল তৈরী হয়ে যায়। শোনা গেল, রেল-কোম্পানির নিযুক্ত ছেলেধরারা শহরে ও গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্চে। তারা কখন এবং কোথায় এসে হাজির হবে, কেউ বলতে পারে না। তাদের কারও পোশাক ভিখিরীর, কারও বা সাধু-সন্ন্যাসীর, কেউ বা বেড়ায় লাঠিহাতে ডাকাতের মত—এ জনশ্রুতি পুরানো, সুতরাং কাছাকাছি পল্লীবাসীর ভয়ের ও সন্দেহের সীমা রহিল না যে এবার হয়ত তাদের পালা, তাদের ছেলেপুলেই হয়ত পুলের তলায় পোঁতা যাবে। কারও মনে শান্তি নেই, সব বাড়িতেই কেমন একটা ছমছম ভাব। আবার তার উপরে আছে খবরের কাগজের খবর। কলকাতায় যারা চাকরি করে তারা এসে জানায়, সেদিন বউবাজারে একটা ছেলেধরা ধরা পড়েচে, কাল কড়েয়ায় আর একটা লোককে হাতে-নাতে ধরা গেছে, সে ছেলে ধরে ঝুলিতে পুরছিল। এমনি কত খবর! কলকাতার অলিতে গলিতে সন্দেহক্রমে কত নিরীহের প্রতি কত অত্যাচারের খবর লোকের মুখে মুখে আমাদের দেশে এসে পৌঁছুল। এমনি যখন অবস্থা তখন আমাদের দেশেও হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটে গেল। সেইটে বলি। “