“ পুঁজিবাদী অর্থনীতি ”- মানুষ প্রাচীন কাল থেকেই একত্রে বসবাস করতো। তখন নানা প্রতিকূলের সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়েছে মানুষকে। খাদ্যের জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে মানুষকে।প্রাচীন কালে খাদ্য সংগ্রহ করাই ছিল মানুষের এক মাত্র কাজ। এর পর তারা খাদ্য উৎপাদন করা শেখে, খাদ্য উৎপাদন ও পশু শিকার করতে গিয়ে তাদের প্রয়োজন হয় হাতিয়ার। তখন মানুষ খাদ্য সংগ্রহ, খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি হাতিয়ার তৈরির কাজ শুরু করে। দিন দিন উৎপাদনের ধরন যত উন্নত ও পরিবর্তিত হতে থাকে তত জিনিসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কস ও এঙ্গেলস ঊনবিংশ শতকে পলিটিক্যাল ইকনমি এর কথা বলেছেন। বিভিন্ন সমাজ-কাঠামোর আওতায় উৎপাদন বিনিময়ের সূত্রাবলী তাঁরা উপস্থাপিত করেন আমাদের সামনে। পুঁজিবাদের বিশ্লেষণ মার্কসীয় অর্থনীতিতে প্রধান স্থান জুড়ে ছিল। এই বইয়ে পলিটিক্যাল ইকনমি শব্দটি ব্যবহার না করে মার্কসীয় অর্থনীতি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি সমাজে তার অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ভর করে উৎপাদনের উপর। জীবনধারণের জন্য মানুষের বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন হয়, আর এই সব জিনিস ছাড়া মানুষ জীবনধারণ করতে পারে না। মানুষের এই সব জিনিসপত্র তৈরি হয় মানুষের শ্রমে। শ্রমের মাধ্যমে মানুষের ব্যবহারিত জিনিস তৈরি করার নাম উৎপাদন। উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন মানুষের শ্রম, শ্রম প্রয়োগের ক্ষেত্র বা বিষয় এবং শ্রমের উপকরণ। এই বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে পুঁজিবাদ, প্রাক-পুঁজিবাদ, পুঁজিবাদী পণ্য উৎপাদন, পুঁজি, শোষকের অর্থনীতি, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের সম্পর্ক ইত্যাদি। সেই আদিম যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান যুগের অর্থনীতি নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে।