বইতে লেখক কিশোরগঞ্জ জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় ঘটনা ও এর সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তিত্বদের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি অবিস্মরণীয় এসব ইতিহাস নতুন প্রজন্মের অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। কিশোরগঞ্জ সম্পর্কে নিরন্তন চর্চা ও অনুভবের বহুমাত্রিক জ্ঞান, বর্নাঢ্য অভিজ্ঞতা আর ফলিতভাবে আহরিত প্রজ্ঞার শক্তিতে মু. আ. লতিফ যখন ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও জনজীবনের নানামুখী প্রপঞ্চকে নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করেন, সমকালীন ইতিহাসের কাঠামো নির্মাণে ব্রতী হন এবং কিশোরগঞ্জচর্চার নবতর বিন্যাসকে ব্যাপক পাঠকের সামনে উন্মোচিত করেন, তখন আমরা যারা স্মৃতি ও সত্ত্বায় কিশোরগঞ্জকে ধারণ করি, তারা রোমাঞ্চিত ও শিহরিত না হয়ে পারি না। আমরা কিশোরগঞ্জ সম্পর্কে একটি তরতাজা ও সদা বহমান স্রোতধারার গভীর স্পর্শে আন্দোলিত হই, যখন তিনি হারিয়ে যাওয়া রথখলার মাঠ ও রথের মেলা, মণিপুরী ঘাট নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। সারা জীবনের কাজকে সামনে রেখে মু. আ. লতিফকে কিশোরগঞ্জ স্টাডিজ বা কিশোরগঞ্জচর্চার ক্ষেত্রে একজন এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞ বলা যায়; যার কাছে কিশোরগঞ্জ সংক্রান্ত আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক-শিল্প-সাহিত্য-নন্দনতাত্ত্বিক-লোকজ এবং সমকালীন ও চিরায়ত সকল জ্ঞান ও তথ্য পাওয়া সম্ভব) ছাড়া আর কিছু নয়; কিশোরগঞ্জের নানা প্রপঞ্চকে অনুধ্যান ছাড়া অন্য কিছু নয়। তার প্রতিটি পেশা, বৃত্তি ও কর্ম কিশোরগঞ্জের শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, পাঠাগার আন্দোলন, ইতিহাসচর্চা ইত্যাদি কোনও না কোনও ধারায় প্রবাহিত হয়েছে। আধুনিক কিশোরগঞ্জের ভাবসম্পদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের দ্যোতনায় আমরা বিমুগ্ধ হই যখন তার বেগবান কলমে ওঠে আসেন অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ বা কবি আজহারুল ইসলাম। আমরা সদ্য হারিয়ে যাওয়া কিশোরগঞ্জকেও আমাদের হৃদয়ের আঙিনায় ফিরে আসতে দেখি হারিয়ে যাওয়া নদী নরসুন্দার তরঙ্গমালায়। এই গ্রন্থ পড়ে আমি দৃঢ় প্রত্যয়ে বলছি যে, এটি কিশোরগঞ্জচর্চার বিশ্বস্ত তথ্যভান্ডার; ইতিহাসের অমূল্য উপাদানে ভরপুর আকর পুস্তক-যা তাকে কিশোরগঞ্জের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার পথে নিয়ে চলেছে। অন্যভাবে বলা যায়, কিশোরগঞ্জকে নিয়ে সমীক্ষা, অধ্যয়ন ও চর্চার যে দীর্ঘ প্রস্তুতি পর্ব তিনি সম্পন্ন করেছেন, এ গ্রন্থ সেটারই প্রমাণবহ।