ভালোবাসার বেলা অবেলা বইটি রাকিবুল আমিনের লেখা একটা প্রেমের গল্প। গল্পের লেখনীর পুরোটাই জড়িয়ে ছিল একধরণের মায়ার আবেশে। অদ্ভুত এক মায়া।
পড়তে গিয়ে গল্পের প্রতিটা সুখ-দুঃখ-কান্না-হাসি-ভালবাসা-ঘৃণা সবই অনুভব করতে পেরেছি। শঙ্খরঙা জল এর প্রতিটা লাইন ই যেনো পরম মমতা দিয়ে লেখা, বিশেষ করে প্রকৃতির ছোট ছোট দৃশ্যের বর্ণনাগুলো !!! পড়তে গিয়ে হোঁচট খাবেন না কখনোই। বরং মনে হবে, আরে এ তো আমাদের চেনা গ্রাম , চেনা দৃশ্য , যেগুলো কখনোই খুব একটা খেয়াল করে লক্ষ্য করা হয়নি ।
অধ্যায়ের ফাঁকে ফাঁকে লেখিকার কবিতা গুলোও ছুঁয়ে গিয়েছে খুব করে !!! অদ্ভুত, মায়াময় !!
কিছু কিছু অধ্যায়ের শেষের লাইনগুলো তো একেবারে ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস টেনে বের করে নিয়ে আসে !!! সবশেষে বইটি যারা পড়বেন তাদের প্রতি আমার একটা অনুরোধ- হাতে তিন ঘন্টার কম সময় নিয়ে বইটি পড়তে বসবেন না। না, বইটি পড়তে এতটা সময় লাগবে না। আপনি যদি একজন মধ্যম গতির পড়ুয়া হন, তাহলে দুই ঘন্টার ভেতরেই বইটি আপনার পড়া হয়ে যাবে। তাহলে বাকি এক ঘন্টা সময় কিসের জন্য? ঝিম মেরে বসে থাকার জন্য! এটা এমন একটা উপন্যাস, যেটা পড়ার পর আপনি যদি চিন্তাহীন ভাবে চোখ বন্ধ করে কমপক্ষে এক ঘন্টা ঝিম মেরে বসে থাকতে না পারেন, তাহলে উপন্যাসটির স্বাদ আপনি কখনোই পুরোপুরি আস্বাদন করতে পারবেন না। বইটির পাতায় পাতায় টানটান উত্তেজনা না থাকুক, আছে গভীর মায়া। লেখক পরম মমতায় গল্পটির প্রতিটি শব্দ গেঁথেছেন। খুব সাধারণ এই কাহিনীতে এতটা মায়া ঢেলে দিয়েছেন, তা আপনাকে ছুঁয়ে যাবেই।