খুবই হাসিখুশী মেয়ে দীঘি। কিন্তু তার জীবনে হঠাৎ অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে যায় যার কারনে সে চায় অলৌকিক এক দরজা যে দরজা দিয়ে পরিচিত মানুষ থেকে হাজার মাইলা দূরে যাওয়া যাবে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয় আর সে কারনেই সমাজের লোকের ঘৃনা আর অপমান সহ্য করে বাচতে হচ্ছে তাকে। শুধু কি সমাজের লোক? নিজের পরিবারের মা বাবা ভাই কি তাকে আদৌ মানুষ বলে ভাবে? ভাবেনা। আর সে কারনেই দীঘি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাসা থেকে চলে যেতে চায়। তবে পালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। এ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার এক মাত্র মাধ্যম বিয়ে। কিন্তু যে মেয়ের জীবনে অদ্ভুত ঘটনা একবার ঘটে যায় তার কি এত সহজে বিয়ে হয়?
হয়না, দীঘিরও হয়নি। পরপর দুবার বিয়ে ভেঙে গেছে। কিন্তু মা বাবা হাল ছাড়েন নি। তারাও হয়তো চান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেয়েকে বিদায় করতে। আর তাই আজ আবার দীঘির বিয়ে। দীঘি জানে তার জীবনের অদ্ভুত ঘটনা যখন ছেলে পক্ষ জানবে তখন বিয়েটা আবার ভেঙে যাবে। তারপরও ক্ষীণ আশা, বিয়েটা যদি সত্যিই হয়ে যায়? কিন্তু বিয়েই কি সমস্ত অপবাদকে মুছে দেবে? এখন ঘটনা জানলে বিয়ে হবেনা ঠিকই কিন্তু বিয়ের পর ঘটনা জানলে পাত্র পক্ষ কি বসে থাকবে?
দীঘি আর কিছুই ভাবতে পারেনা, তবে সে সিন্ধান্ত নেয় পাত্রকে কে সে তার সব ঘটনা খুলে বলবে, তারপর যা হয় হবে।
এই হলো মোটামুটি প্লট। লেখিকার লীলা নামে একটা বই পড়েছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। সত্যি বলতে ওই বইটা পড়ে যত ভালো লেগেছিলো এই বইটা পড়ে তার চেয়ে হাজার গুন ভালো লেগেছে।এটা বোঝাতে চাচ্ছি না ওটা খারাপ লেগেছে। আমার মনে হয়েছে বইটা যেন সমাজের প্রতিচ্ছবি। সত্যি সত্যি আমাদের সমাজে এরকম কিছু মেয়ে আছে যারা মিথ্যা অপবাদে অভিযুক্ত। দুর্ভাগ্য বশত তার ওপর আরোপিত ঘটনা যে মিথ্যা সেটা প্রমানের কোন অপশন তার হাতে নাই। এরকম কিছু মেয়েকে আমি চিনি। আমি হয়তো তাকে বিশ্বাস করছি কিন্তু আমার বিশ্বাসে কি এসে যায়? যে ছেলে তার সাথে সারাজীবন কাটবে সে বিষয়টা কিভাবে নিচ্ছে সেটাই মূল বিষয়। পাতার মান, প্রচ্ছদ, বাধাই সব ভালোই ছিল। কিন্তু কোটেশন, বর্ন বিন্যাস একদম ভালো ছিলনা। দারুন এই উপন্যাস যদি কোটেশন এবং এক ঘটনা থেকে আরেক ঘটনায় যাওয়ার সময় কিছুটা লাইনের ব্যবধান রাখা হতো তাহলে ভালো হতো।
কিন্তু প্লট যেহেতু ভালো লেগেছে কাজেই বইটাতে এসব বিষয় আমি প্রাধান্য দেই নি। একটা বইয়ের সবকিছু নিজের মনের মত হতে হবে তারতো কোন মানে নাই। যাহহোক আপনারা পড়ে দেখেন, নিশ্চয়ই ভালো লাগবে।