12 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 500TK. 449 You Save TK. 51 (10%)
ডক্টর রমা চৌধুরী কুড়ি শতকের বিদুষী নারীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯১ খিষ্ট্রাব্দের ২০ মার্চ কলকাতায় স্বর্গারোহণ করেন। তাঁর
বেদান্তের শব্দগত অর্থ বেদের অন্ত বা শেষ; বেদ হিন্দুদের শাস্ত্র। পাশ্চাত্যে কখনো কখনো ‘বেদ’ বলিতে উহার স্তোত্র ও আনুষ্ঠানিক অংশ-মাত্র বোঝায়। কিন্তু বর্তমানকালে বেদের এই অংশের ব্যবহার প্রায় নাই বলিলেই চলে; ভারতে এখন ‘বেদ’ বলিতে সাধারণতঃ বেদান্তই বোঝায়। সব ভাষ্যকারই শাস্ত্রোক্তি উদ্ধৃত করার সময় বেদান্ত থেকে নিয়ে থাকেন—এটাই নিয়ম; ভাষ্যকারগণের কাছে বেদান্তের আর একটি বিশেষ নাম ‘শ্রুতি’। ‘বেদান্ত’ নামে পরিচিত সব গ্রন্থই বেদের ক্রিয়াকাণ্ডের পরে রচিত হয় নাই। যেমন ‘ঈশোপনিষদ্’ নামক বেদান্ত-গ্রন্থ যজুর্বেদের বিংশ অধ্যায়ে রয়েছে, এটি বেদের প্রাচীনতম খণ্ড। বেদের ব্রাহ্মণ বা অনুষ্ঠানমূলক অংশেও অপর কয়েকটি উপনিষদও রয়েছে। বাকী উপনিষদ্গুলি স্বতন্ত্র, বেদের ব্রাহ্মণ বা অন্য কোন অংশের অন্তর্ভূক্ত নয়। কিন্তু সেগুলি যে বেদের অন্য অংশ হতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, এ-কথা ভাবার কোন কারণ নাই, কারণ আমরা জানি এগুলির মধ্যে অনেকগুলিই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে, এবং বহু ব্রাহ্মণ-অংশও লুপ্ত হয়েছে। কাজেই এটি খুবই সম্ভব যে, এই উপনিষদ্গুলি কোন-না-কোন ‘ব্রাহ্মণ’-এর অন্তর্ভূক্ত ছিল, কালক্রমে সেই ব্রাহ্মণ-অংশগুলি লোপ পেয়েছে, কিন্তু উপনিষদ্গুলি রয়ে গেছে। এই উপনিষদ্গুলি ‘আরণ্যক’ নামেও অভিহিত।কাজেই বেদান্তই কার্যতঃ হিন্দুদের শাস্ত্রগ্রন্থ, এবং ভারতীয় দর্শনে যতগুলি আস্তিক মতবাদ আছে, তাহাদের সবগুলিই বেদান্তকে ভিত্তিরূপে গ্রহণ করেছে। ডক্টর রমা চৌধুরী-র বেদান্ত দর্শন’ বইটি ডক্টর এম মতিউর রহমান এর পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি বই । ডক্টর এম মতিউর রহমান এর গবেষণার কেন্দ্রীয় বিষয় ভারতীয় ধর্ম, দর্শন ও সংস্কৃতির শাশ্বত ঐতিহ্য এবং রবীন্দ্র দর্শন। এই বইটিতে বেদান্তের দর্শনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি ভারতীয় দর্শনের একটি অংশ।
Was this review helpful to you?
By Tultul Zabin, Mar 30, 2017
‘ডক্টর রমা চৌধুরী-র বেদান্ত দর্শন’ বইটি ডক্টর এম মতিউর রহমান এর পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি বই । ডক্টর রমা চৌধুরী বিংশ শতাব্দীর বিদুষী নারীদের মধ্যে অন্যতম । তিনি ১৯১১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন । তার আদী নিবাস ছিলো বাংলাদেশের ময়মনসিঙ্ঘ জেলার জয়সিদ্ধি গ্রামে । তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় এর কৃতী ছাত্রী এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ । ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতার ব্রহ্ম বালিকা বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়ে ম্যাট্রিক , স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শন এ প্রথম হয়ে বি এ অনার্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে প্রথম হয়ে মাস্টার্স করেন । এরপরে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান । সেখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে ব্রেবোর্ন কলেজে অধ্যাপনায় যোগ দেন এবং সেখানে তিনি ১৮ বছর অধ্যাপনার সাথে জড়িত ছিলেন । এরপরে তিনি কলকাতাস্থ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়ে সেইখান থেকে ১৯৭৫ সালে অবসর গ্রহন করেন । এরপরে তিনি তার স্বামীর অকুন্ঠ সহযোগীতায় তিনি আজীবন বেদান্ত দর্শন এবং সংস্কৃত ভাষার প্রচার ও প্রসারে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন । বহুশতাব্দী লালিত বেদান্ত দর্শনের বহুবিচিত্র ব্যক্ষা ও চর্চার মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে হয়ে আছেন একজন বিদুষী নারী । তার লেখা এই বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে । বইটি প্রকাশিত হয়েছে অবসর প্রকাশনা সংস্থা থেকে এবং এর প্রকাশক এফ রহমান । প্রচ্ছদ ডিজাইন করেছেন আবু তৈয়ব রানা আজাদ । এই বইটি তে এম মতিউর রহমানের চেষ্টায় ডক্টর রমা চৌধুরীর কিছু দুঃষ্প্রাপ্য ও মুল্যবান অগ্রন্থিত প্রবন্ধ গ্রন্থাকারে উপস্থাপিত হয়েছে পাঠকের জন্য , যা সত্যিই দারুন লাগবে ।