‘চন্দ্রাহত হাছন’ ফারিসা মাহমুদ এর লেখা হাসন রাজা কে নিয়ে একটি বই । হাছন রাজা একটি অতি পরিচিত নাম । আমাদের দেশের লোকগীতি তে হাছন রাজার নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা রয়েছে । তার সৃষ্টি করা অসাধারন গান এখন ও মানুষের মুখে মুখে চলে আসছে । তাকে নিয়ে চন্দ্রাহত হাছন বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে । বইটি প্রকাশিত হয় সব্যসাচী প্রকাশনী থেকে এবং বইটির প্রকাশক শতাব্দী ভব । প্রচ্ছদ ডিজাইন করেছেন মহাম্মদ শফিউল ফারুখ । বাংলাদেশের একজন মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী। তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রাজা। মরমী সাধনা বাংলাদেশে দর্শনচেতনার সাথে সঙ্গীতের এক অসামান্য সংযোগ ঘটিয়েছে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে লালন শাহ্ এর প্রধান পথিকৃৎ। এর পাশাপাশি নাম করতে হয় ইবরাহীম তশ্না দুদ্দু শাহ্, পাঞ্জ শাহ্, পাগলা কানাই, রাধারমণ দত্ত, আরকুম শাহ্, শিতালং শাহ, জালাল খাঁ এবং আরো অনেকে। তবে দর্শনচেতনার নিরিখে লালনের পর যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নামটি আসে, তা হাসন রাজার। মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে , কান্দে হাছন রাজার মন কান্দেরে, এই অসাধারন গান এর মতো অসাধারন অনেক গান সৃষ্টি করে গেছেন হাছন রাজা । চন্দ্রা কে হারিয়ে হাছন রাজা তাকে মনে করতো , আকাশে চাঁদ উঠলে হাসন রাজা উদাশ হয়ে যেতো , চাদের মধ্যে হাছন চন্দ্রাকে দেখত । হাছন জানে এই চাঁদ দেখলে চন্দ্রা যেখানেই থাকুক তার হাসনের জন্য মনে হাহাকার উঠবেই । চন্দ্রা একদিন ঝড় এর মাঝে রামপাশা মন্দিরের ঘাটের সিড়ির উপরে বসে গান গাচ্ছিল , রামপাশার জমিদার হাছন রাজার কানে সেই সুর ভেসে আসে । এরপরে বদলে যায় সব কিছু । অসাধারন এ বইটি পড়লে পাঠক অসাধারন কিছু প্রেমের ও বিরহের উপন্যাসের স্বাদ পাবেন ।